রাসায়নিক স্প্রে আতঙ্ক, প্রতারণা চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার
Advertisement
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
প্রতারক চক্রের চার সদস্যসহ গ্রেফতার ৫। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নওগাঁয় রাসায়নিক স্প্রের (শয়তানের নিংশ্বাস) প্রতারক চক্রের চার সদস্যসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া স্বর্ণালংকারের একটি অংশও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের নওগাঁ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের সামনে ফাতেমা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধাকে অজ্ঞাতপরিচয়ের কয়েকজন ব্যক্তি অচেতন করে। পরে কৌশলে তাকে একটি রিকশায় তুলে নিয়ে তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, কানের দুল এবং নগদ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে ডিগ্রির মোড়সংলগ্ন ময়লা ফেলার স্থানে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) তিনি মারা যান।
একই দিনে এক বৃদ্ধ দম্পতিকে রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগ করে জোরপূর্বক একজোড়া স্বর্ণের কানের দুল হাতিয়ে নেয় ওই প্রতারক চক্র।
এ দুটি ঘটনায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়।
পরে শুক্রবার রাতে নওগাঁ শহরের ৯টি আবাসিক হোটেলসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অভিযানে নওগাঁ রেস্ট হাউস হোটেলসহ বিভিন্ন স্থান থেকে গাইবান্ধা জেলার আব্দুল হাই, এরশাদ আলী ও বাবলু এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কালামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তারা এ অপরাধের কথা স্বীকার করে।
তদন্তে জানা যায়, চুরি হওয়া স্বর্ণের কানের দুল নওগাঁ স্বর্ণপট্টির মুহিব জুয়েলার্সের ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীরের কাছে বিক্রি করা হয়। পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা এরশাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জাহাঙ্গীরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি চোরাই স্বর্ণ কেনার বিষয়টি স্বীকার করেন।
পুলিশ জানায়, জাহাঙ্গীর এর আগেও নওগাঁ স্বর্ণপট্টিতে চোরাই স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, চুরি হওয়া বাকি স্বর্ণালংকার ও অর্থ তাদের পলাতক সহযোগীদের কাছে রয়েছে। তাদের গ্রেফতার এবং অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতারণা, ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

