Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

মুক্তাগাছায় জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে

Advertisement

Icon

সোহেল রানা, মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ)

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

মুক্তাগাছায় জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে

মুক্তাগাছায় জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে

Advertisement

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েন মুক্তাগাছার পৌর এলাকার বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানিতে সয়লাব হয়ে যায় এলাকার দোকানপাট ও ঘরবাড়ি।

বসতঘরে পানি ঢুকে বসবাসের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। পাশাপাশি রাস্তাঘাটে হাঁটু পানি জমে সৃষ্টি হয় সীমাহীন জনদুর্ভোগ। বর্ষা মৌসুম এলেই যুগের পর যুগ এমন দৃশ্যের দেখা মেলে মুক্তাগাছার পৌর এলাকায়। 

পৌরসভার ঈদগাহ, নন্দীবাড়ি, ঢালুয়াবিল, ঈশ্বর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে যুগান্তরকে বলেন, পৌর এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত ও প্রাচীনকালের। আর যে সমস্ত ড্রেন রয়েছে তাও অত্যন্ত সরু এবং নিম্নমানের,সেগুলো দিয়ে পানি বের হতেই চায় না। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকার রাস্তাগুলো পানির নিচে চলে গিয়ে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি এবং জনসাধারণের চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। তবুও আমাদের দুর্ভোগ দেখার মতো কেউ নেই। 

পৌরসভার অধিকাংশ এলাকায় প্রতিবছরই নিয়ম করে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা তবুও সমাধানের কোনো চেষ্টায় নেই পৌরসভা কর্তৃপক্ষের। এমনটাই দাবি স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। তবে অভিযোগ মানতে নারাজ পৌর কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, জলাবদ্ধতা নিরসনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন পৌরসভা প্রশাসন।

উপজেলায় মঙ্গলবার বিকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে ভারি বৃষ্টিপাতে পৌর এলাকায় তৈরি হয়েছে দীর্ঘ জলাবদ্ধতা। নিচু এলাকার দোকানপাট এবং ঘরবাড়িতেও ঢুকে শুরু করেছে পানি। ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌর এলাকার পাঁচ শতাধিক পরিবার। ময়লা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে জলাবদ্ধতায় থাকা বাসিন্দারা।

সরেজমিন পৌরসভার সামনে গিয়ে দেখা যায়- পৌরসভার গেটে হাঁটু পানি। এছাড়া শহরের চৌরঙ্গী মোড়, আটানি বাজার, দরিয়াচানি বাজার, বড়মসজিদ ও কলেজ রোড এবং পৌর মার্কেটের রাস্তায় হাঁটু পানি জমে গেছে। এতে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ওই এলাকার মানুষ।

পাশাপাশি পৌরশহরের ঈদগাহ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, টানা বৃষ্টি হওয়ায় এলাকার অনেক ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও কোথাও বাসার সামনে এবং চলাচলের রাস্তায় হাঁটু সমান পানি জমে রয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছে পানিবন্দি পরিবারগুলো। 

স্থানীয়দের দাবি, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় ময়লা পানি সড়কে উঠে যাচ্ছে এবং জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় প্রতিবছরই  এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

পৌর শহরের বড় মসজিদ এবং পৌর মার্কেটের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, জলাবদ্ধতায় লোকজনের চলাচলে কষ্ট হচ্ছে। ফলে দোকানের বেচাকেনা অনেক কম হচ্ছে। জলাবদ্ধতায় নাগরিক হিসেবে আমাদেরও অনেক দায় রয়েছে। বেশিরভাগ সময় পরিত্যক্ত জিনিসপত্র ও ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে না ফেলে, যত্রতত্র ফেলার কারণে ড্রেনের পানি আটকে গিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজের কাজটি করতে পারেননি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র বিল্লাল হোসেন সরকার। জলাবদ্ধতার নিরসনের নামে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে নিজের পকেট ভারি করেছেন তিনি।

এদিকে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার ফলে প্রতিবছর নিয়ম করে পৌরসভার গেট, পৌরমার্কেট, কলেজ রোড, ৬নং ওয়ার্ডের ওয়াপদা কলোনি ও খাদ্যগুদাম রোডের কিছু অংশ, ৮নং ওয়ার্ডের দরগাপাড় থেকে দক্ষিণে নন্দীবাড়ি, ঢোলুয়াবিল, পাড়াটঙ্গী, লক্ষ্মীখোলা এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতার সীমাহীন জনদুর্ভোগ।

পৌর শহরের ঈদগাহ এলাকার বাসিন্দা অপু বলছেন, এখানকার বড় সমস্যার নাম জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান পানি জমে যায়। এতে জনগণ ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। প্রায় এক যুগ ধরে নানাভাবে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেও এ সমস্যার সমাধান হয়নি। 

জলাবদ্ধতার নামে লাখ লাখ টাকা পকেটে ভরা প্রসঙ্গে জানতে সাবেক পৌর মেয়র বিল্লাল হোসেন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। 

এ প্রসঙ্গ পৌরসভা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র জানান, জলাবদ্ধতার কারণগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশেষ কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমি নিজে সশরীরে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার অভিযান চালিয়েছি। ড্রেনে ময়লা ফেলা থেকে বিরত রাখতে নাগরিকদের আরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে; যাতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত না হয়।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

হত্যা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন

হত্যা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন

প্রধান শিক্ষক ও নারী শিক্ষকের মারামারির ভিডিও ভাইরাল, বিভাগীয় মামলা

প্রধান শিক্ষক ও নারী শিক্ষকের মারামারির ভিডিও ভাইরাল, বিভাগীয় মামলা

নারী শিক্ষকের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের মারামারির ভিডিও ভাইরাল

নারী শিক্ষকের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের মারামারির ভিডিও ভাইরাল

হালুয়াঘাট সীমান্তে বিজিবির ওপর চোরাকারবারিদের হামলা, গুলিতে নিহত ১

হালুয়াঘাট সীমান্তে বিজিবির ওপর চোরাকারবারিদের হামলা, গুলিতে নিহত ১

লটারিতে প্রথম হয়েও সারের ডিলারশিপ পাননি কৃষক দল সভাপতি

লটারিতে প্রথম হয়েও সারের ডিলারশিপ পাননি কৃষক দল সভাপতি

স্বজনের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গৌরীপুরে বাল্যবিয়ে বিরোধী শোভাযাত্রা

স্বজনের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গৌরীপুরে বাল্যবিয়ে বিরোধী শোভাযাত্রা

আরও পড়ুন

‘সিলেটে থাকতে হলে টাকা দিতে হবে’ গভীর রাতে বাসায় ঢুকে প্রকৌশলীকে মারধর-হুমকি

‘সিলেটে থাকতে হলে টাকা দিতে হবে’ গভীর রাতে বাসায় ঢুকে প্রকৌশলীকে মারধর-হুমকি

ফাঁড়িতে হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা, রামদায়ের কোপে ২ পুলিশ আহত

ফাঁড়িতে হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা, রামদায়ের কোপে ২ পুলিশ আহত

শিশুকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে বিপাকে, ওসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শিশুকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে বিপাকে, ওসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

হত্যা মামলায় একই পরিবারের চারজনের যাবজ্জীবন

হত্যা মামলায় একই পরিবারের চারজনের যাবজ্জীবন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম