বন্যায় নিঃস্ব বৃদ্ধ নুরুল করিম
ছয় দিন চুলায় আগুন জ্বলেনি
Advertisement
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:২০ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ছয় দিন ধরে টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বাঁশখালীর বাহারছাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা গ্রামের হাজী লস্কর বাড়ির ৭ সন্তানের জনক বৃদ্ধ মোহাম্মদ নুরুল করিম।
শনিবার বিকালে নিজ বাড়ির সামনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীর সামনে তিনি জানান, তিল তিল করে গড়ে তোলা দীর্ঘদিনের স্বপ্ন মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে তিনি আল্লাহ ছাড়া আর কোন ভরসা নেই বলে মনে করেন। বাড়িতে থাকা ধান, চাল, পুকুর ভরা মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। গত ছয় দিন ধরে তার ঘরের চুলায় আগুন জ্বলেনি। পরিবার-পরিজন নিয়ে মুড়ি বিস্কুট কলা খেয়ে দিন পার করছেন। টাকা না থাকায় বাইরে থেকে তেমন কোনো জিনিস কিনে আনা সম্ভব হয়নি তার। ছয় দিন ধরে সরকারি-বেসরকারি কোন ত্রাণ সহযোগিতা পাননি তিনি।
বর্তমানে তিনি সাত সন্তান ও স্ত্রীসহ আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে জানান, সব জায়গায় এত ত্রাণ বিতরণ করা হলেও আজ পর্যন্ত তিনি কোন সংস্থা বা কোন ব্যক্তির কাছ থেকে কোন ধরনের ত্রাণ পায়নি। তার বাড়িতে থাকা চাল, ডাল, তেল ইত্যাদি পানিতে ভেসে যাওয়ায় তিনি এবং তার পরিবার বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। তার মাটির তৈরি বসতবাড়িটি পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি বর্তমানে নিঃস্ব।
তিনি জানান, পানিবন্দি আমার মতো অসংখ্য পরিবার আজ নিঃস্ব হয়ে গেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন সরকারি বেসরকারিভাবে যেগুলো ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে সেগুলো আমাদের মতো অসহায় পরিবারের কাছে ঠিকমতো পৌঁছে না। তিনি এখনও পর্যন্ত সরকারি বেসরকারি কোন সহযোগিতা পায়নি। তিনি সরকারকে অনুরোধ করে বলেন, যেন সরকার সঠিক বরাদ্দের মাধ্যমে আমাদের মতো বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের পাশে যেন দাঁড়ায়।
এবিষয়ে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাঁশখালীতে প্রতিদিন সরকারি বেসরকারি ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে।
আমার মনে হয় ত্রাণ পাওয়া থেকে কেউ বাদ পড়েছে। যদিও কেউ বাদ পড়ে থাকে তাকে শিগগিরই ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে।
