পাওয়ারকার অপারেটরকে মারধরের অভিযোগ, ট্রেন আটকে বিক্ষোভ
Advertisement
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী মেইল ট্রেনের পাওয়ারকার অপারেটরকে মারধর করে মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে বিক্ষোভ করেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীরা। এতে চট্টগ্রাম থেকে দুটি ট্রেনের যাত্রা ব্যাহত হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার হাসানপুর স্টেশনে মারধরের এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার অপারেটরের নাম বদিউল আলম।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর ট্রেনটি প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় চলে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছায়। পরে সহকর্মীরা আহত অপারেটর বদিউল আলমকে উদ্ধার করে রেলওয়ের সিআরবি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এদিকে সহকর্মীকে মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে বিক্ষোভ শুরু করেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীরা। এ সময় চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ময়মনসিংহগামী ‘বিজয় এক্সপ্রেস’ এবং ঢাকা অভিমুখী ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’ আটকে রাখা হয়।
ভুক্তভোগী বদিউল আলমের অভিযোগ, ট্রেনটি হাসানপুর স্টেশনে থামলে দায়িত্বরত ঢাকা রেলওয়ে রেঞ্জের জিআরপি কনস্টেবল গফুর ও হুমায়ুন এবং সাদা পোশাকে থাকা আরও এক ব্যক্তি পাওয়ারকারের দরজা খুলতে বলেন। তখন বদিউল বলেন, ‘আপনাদের বসার জন্য নির্ধারিত বগি রয়েছে। এটি পাওয়ারকার বা ইঞ্জিন কক্ষ, সবসময় ঝুঁকির মধ্যে কাজ করতে হয়। বারবার দরজা খোলা সম্ভব নয়।’
এ কথা বলার পরই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে লাথি মেরে ফেলে বেদম মারধর করেন এবং তার মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেন।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার আবু জাফর মজুমদার বলেন, পাওয়ারকার অপারেটরকে মারধরের জেরে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে বিজয় এক্সপ্রেস ছাড়তে প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্ব হয়। এছাড়া কর্ণফুলী এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে গেলেও আন্দোলনকারীদের বাধায় পাহাড়তলী স্টেশনে গিয়ে কিছু সময়ের জন্য আটকে থাকে। পরে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে কর্মচারীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
