টানা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে মেঘনা চরের আমন ধান-পান-সবজি
Advertisement
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে টানা বৃষ্টি ও মেঘনার পানিতে তলিয়ে গেছে উপকূলীয় চরাঞ্চলের তিনশ' হেক্টর জমির আমন ও আউশ ধানের বীজ, পান ও সবজি। এক সপ্তাহের ভেতরে এসব ফসল পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় কৃষকরা।
এছাড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের (উত্তর চরবংশী, দক্ষিণ চরবংশী, উত্তর চরআবাবিল ও দক্ষিণ চরআবাবিল) দশটি গ্রাম ও বেরিবাঁধে পশ্চিম এলাকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রাস্তাঘাট, বাজারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ডুবে গেছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী আরও কয়েক দিন এমন ভারি বৃষ্টি থাকবে। আর বৃষ্টির এমন ধারাবাহিকতায় বড় ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে মেঘনা উপকূলীয় চরাঞ্চলের আমন ও আউশ ধানের বীজতলা ও পানসহ সবজি উৎপাদনে। আবার বৃষ্টির সঙ্গে রয়েছে বজ্রাঘাতে মৃত্যুর ঝুঁকি। সব মিলিয়ে উপকূলীয় কৃষকদের চোখে-মুখে এখন হাহাকার।
মেঘনার চরকাছিয়া চরে পানিতে তলিয়ে গেছে উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের কৃষক মিলন মিয়ার সারা বছরের স্বপ্ন। তিনি এবার ৬ একর জমিতে আমন ধানের বীজ বপন করেছিলেন। তা এখন মেঘনার করাল গ্রাসে নিমজ্জিত। বীজতলাগুলো তা আজ পচা পানির নিচে ডুবে আছে। বুক সমান পানিতে নেমেও শেষ রক্ষা হয়নি। প্রশাসনের কাছে এ বিশাল আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আর্থিক প্রণোদনা ও সহযোগিতা চেয়েছেন কৃষক মিলন মিয়া।
চরআবাবিলের কৃষক আবদুল জলিল বলেন, দেড় একর জমিতে এবার পান চাষ করি। টানা বৃষ্টিতে পানের বরজ সব নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে বিক্রির কোনো উপায় নেই। এদিকে রয়েছে ঋণের বোঝা। কীভাবে এতসব সামলাবো তা ভেবেই কুল-কিনারা পাচ্ছি না। আমার মতো অনেক কৃষকের একরের পর একর বীজ ও পান পানিতে তলিয়ে গেছে। যদি রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে দেওয়া হয়, তাহলে হয়তো আমরা ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ থেকে বাঁচতে পারব।
রায়পুরের কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম জানান, মেঘনার চরাঞ্চলে আবাদ করা ৩শ হেক্টর জমিতে আমন ও আউশ ধানের বীজতলা, ৩শ হেক্টর জমিতে সবজি ও আড়াইশ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কারও কিছুই করার থাকে না। যদি আবহাওয়া ভালো হয় তাহলে সয়াবিন ও পান তুলতে পারবে।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারপরও চেয়ারম্যানদের খোঁজখবর দিতে বলা হয়েছে। সরকারিভাবে কোনো অনুদান এখনও আসেনি।

