বৃষ্টির মধ্যে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ
দৌলতদিয়ায় জলাবদ্ধতায় শতাধিক পরিবারের দুর্ভোগ
Advertisement
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অবৈধ বালুর চাতালের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়েছে শতাধিক পরিবার।
উঁচু উঁচু বালুর স্তূপ হতে বের হওয়া পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এবং গত ৩-৪ দিনের ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
শ্রমিক দল নেতা সরোয়ার হোসেন মোল্লা, আব্বাস, জগো, সালাম, জামাল, আলিম মোল্লাসহ বেশ কয়েকজন মিলে এ বালুর ব্যবসা পরিচালনা করেন।
বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী রোববার দুপুরে বৃষ্টির মধ্যে পার্শ্ববর্তী বাইপাস সড়কে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় প্রায় আধঘণ্টার মতো যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সাত্তার মেম্বারপাড়া এলাকায় ওই জলাবদ্ধতার কারণে শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর, আঙিনা, গ্রামীণ সড়ক ও চলাচলের পথ পানিতে তলিয়ে গিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিশু, নারী ও বয়স্কদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিন রোববার (১২ জুলাই) গিয়ে দেখা যায়, টানা বৃষ্টির পানি ও বালুর চাতাল থেকে নেমে আসা পানি জমে পুরো এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ বাড়ির উঠান পানিতে ডুবে রয়েছে। রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে থাকায় বাজারে যাতায়াত, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় পানি নিষ্কাশনের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই বালুর চাতাল থেকে নেমে আসা পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এবার টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বাড়ির চারপাশে পানি জমে থাকায় রান্নাবান্না এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। ছোট ছোট শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ সরকার জানান, বালুর চাতালের কারণে আমাদের দূর ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হোক।
রুমা খাতুন নামে এক গৃহবধূ জানান, তার স্বামী ঢাকায় একটা বেসরকারি চাকরি করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে বাড়িতে রয়েছেন। তাকে ডাক্তার দেখাতে নেওয়া দরকার। কোলে আমার ছোট বাচ্চা কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে আমরা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছি। খুবই মানবেতর দিন কাটাচ্ছি। দয়া করে আমাদের এই দুর্বিষহ অবস্থা হতে বাঁচান।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, জলাবদ্ধতা এবং ভুক্তভোগীদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে সরেজমিন এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেই সঙ্গে বালুর চাতাল মালিকদের পানি নিষ্কাশনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছি।
গোয়ালন্দ উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সরোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, এলাকাটি এমনিতেই নিচু। চারদিকে রাস্তা। পানি বের হওয়ার সুযোগ নেই। আমরা একযোগে তিনটি শ্যালোমেশিন দিয়ে পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করেছি।
