জনবল সংকটে নিজেই ‘রোগাক্রান্ত’ রৌমারী হাসপাতাল, কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না রোগীরা
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ৩৩টি চিকিৎসকের পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১২ জন।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। দীর্ঘদিন ধরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালটি যেন নিজেই ‘রোগাক্রান্ত’ হয়ে পড়েছে। হাসপাতালটি কাগজে-কলমে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনো ৩১ শয্যারও কম জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ ও দরিদ্র মানুষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ৩৩টি চিকিৎসকের পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১২ জন। জুনিয়র কনসালট্যান্ট ১১টি পদের প্রায় সবই শূন্য। চক্ষু, কার্ডিওলজি, অর্থোপেডিক ও গাইনি বিভাগের কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই।
প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। হাসপাতালে কোটি টাকা মূল্যের এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ান ও রেডিওলজি বিভাগের জনবল না থাকায় সেগুলো বছরের পর বছর ধরে অকেজো পড়ে রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে দরিদ্র রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক্স-রে ও ইসিজি করাতে হচ্ছে।
এ ছাড়া হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালকের অভাবে তা চালু নেই। জেনারেটর থাকলেও সেটি সচল নয়। ফলে জরুরি বিদ্যুৎব্যবস্থা, ফ্যানসহ অন্যান্য সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
অপারেশন থিয়েটার থাকলেও গাইনি সার্জন ও অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ না থাকায় প্রসূতি মায়েদের সিজারিয়ান বা জরুরি অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে না। গুরুতর রোগীদের কুড়িগ্রাম বা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে, যা নদীবেষ্টিত এ অঞ্চলের মানুষের জন্য ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ।
শুধু চিকিৎসকই নন, হাসপাতালটিতে নার্স, অফিস সহকারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর একাধিক পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। নৈশপ্রহরী ও আয়া না থাকায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ও রোগীদের দেখভাল ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি অপরিচ্ছন্ন পরিবেশেরও সৃষ্টি হয়েছে।
চিকিৎসা নিতে আসা সালমা, মঞ্জুয়ারা, আনোয়ারাসহ একাধিক রোগী জানান, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায় না। প্রয়োজনীয় ওষুধও বেশিরভাগ সময় বাইরে থেকে কিনতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সাজেদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম ও মমিন মিয়া বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদে বিচ্ছিন্ন এ সীমান্তবর্তী উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি সত্য। সীমিত জনবল নিয়েই সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিত চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
