পুরুষের যে ৫ সমস্যা গোপন রাখলে বাড়ে বিপদ
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শারীরিক নানা সমস্যা নিয়ে নারীদের পাশাপাশি পুরুষেরাও অনেক সময় লজ্জা ও সংকোচে ভোগেন। বিশেষ করে প্রজননতন্ত্র ও যৌনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার কথা পরিবারের সদস্য কিংবা চিকিৎসকের কাছে প্রকাশ করতে চান না অনেকে। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি হয়, কখনো জটিল আকার ধারণ করে অসুখ। অণ্ডকোষের সমস্যা, ইরেক্টাইল ডিসফাংশন, দ্রুত বীর্যপাত, ফিস্টুলা কিংবা পুরুষের স্তন বৃদ্ধির মতো সমস্যাগুলো নিয়ে এমন সংকোচ দেখা যায়।
চিকিৎসকদের মতে, এসব সমস্যার অনেকগুলোরই কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। তবে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অণ্ডকোষের যেসব সমস্যা অবহেলা নয়
ইউরোলজিস্ট ডা. ফজল নাসের জানান, পুরুষদের অণ্ডকোষে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে হাইড্রোসিল, হার্নিয়া, টেস্টিকুলার টরশন, ভেরিকোসিল ও টেস্টিকুলার সিস্ট।
হাইড্রোসিলের ক্ষেত্রে অণ্ডকোষের চারপাশে তরল জমে অঙ্গটি ফুলে যায়। প্রদাহ কিংবা আঘাতের কারণে এ সমস্যা হতে পারে। এক পাশের অথবা দুই পাশের অণ্ডকোষেই এটি দেখা দিতে পারে।
হার্নিয়া হলে পেটের ভেতরের অংশ নিচের দিকে নেমে আসার অনুভূতি হতে পারে। বিশেষ করে হাঁচি, কাশি কিংবা জোরে হাঁটার সময় তলপেটের নিচে চাপ অনুভূত হয়। অন্যদিকে, অণ্ডকোষকে ধরে রাখা শুক্রনালির মতো অংশটি পেঁচিয়ে গেলে তাকে টেস্টিকুলার টরশন বলা হয়। এ ছাড়া অণ্ডকোষের সঙ্গে যুক্ত রক্তনালি ফুলে কৃমির মতো দেখালে তাকে ভেরিকোসিল বলে। টেস্টিকুলার সিস্টের ক্ষেত্রেও অণ্ডকোষের পাশে অতিরিক্ত গুটির মতো অংশ অনুভূত হতে পারে।
ডা. নাসেরের মতে, অণ্ডকোষের এসব সমস্যায় সাধারণত ফুলে যাওয়া ও ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। তবে অণ্ডকোষের স্বাভাবিক অনুভূতি কমে যাওয়া এবং ধীরে ধীরে ফুলে ওঠার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, কিছু ক্ষেত্রে এটি ক্যানসারের লক্ষণও হতে পারে।
পুরুষের স্তন বৃদ্ধি বা গাইনোকোমেশিয়া
পুরুষের স্তনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা গাইনোকোমেশিয়া নিয়েও অনেকেই অস্বস্তিতে থাকেন। এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ডা. মুস্তাফা কায়সার জানান, হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে এ সমস্যা দেখা দেয়।
সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের এ সমস্যা হতে পারে। এক পাশে অথবা দুই পাশেই স্তন বড় হতে পারে এবং ব্যথাও অনুভূত হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিছুদিন পর এটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তিন সেন্টিমিটারের বেশি বড় হলে হরমোনের চিকিৎসা দেওয়া হতে পারে।
চিকিৎসকের মতে, এটি সাধারণত ক্যানসার বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা তৈরি করে না। তবে ছয় মাসের বেশি স্থায়ী হলে স্বাভাবিকভাবে সেরে ওঠার সম্ভাবনা কমে যায়। বয়স বাড়ার পর কেউ অস্বস্তি বোধ করলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সহজেই অতিরিক্ত অংশ অপসারণ করা সম্ভব।
ইরেক্টাইল ডিসফাংশন ও দ্রুত বীর্যপাত
পুরুষদের সবচেয়ে বেশি সংকোচের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন ও প্রিম্যাচিওর ইজাকুলেশন। যৌনমিলনের সময় পুরুষাঙ্গ প্রয়োজনীয় মাত্রায় শক্ত না হওয়াকে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বলে। অন্যদিকে, যৌনমিলন শুরু হওয়ার পর খুব দ্রুত বীর্যপাত হওয়াকে বলা হয় প্রিম্যাচিওর ইজাকুলেশন।
ডা. ফজল নাসের বলেন, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে অনেক পুরুষই এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন। তবে একবার এমন হলে শারীরিক সমস্যা রয়েছে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। ক্লান্তি, উদ্বেগ কিংবা মানসিক চাপের কারণে সাময়িকভাবে এমন হতে পারে।
তবে নিয়মিত এ সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। যৌনাঙ্গের রক্তনালি সরু হয়ে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, হরমোনজনিত সমস্যা কিংবা কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যথাযথ চিকিৎসায় এসব সমস্যা ভালো হয়ে যায়।
সংকোচের কারণ সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ইশরাত শারমিন রহমান বলেন, পুরুষদের অসুখ গোপন করার পেছনে সামাজিক শিক্ষা ও দৃষ্টিভঙ্গির বড় ভূমিকা রয়েছে। সমাজে পুরুষকে সব সময় শক্তিশালী ও সক্ষম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ফলে যৌনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো সমস্যা দেখা দিলে অনেকেই সেটিকে নিজের পুরুষত্বের ওপর আঘাত বলে মনে করেন।
তাদের আশঙ্কা থাকে, সমস্যার কথা প্রকাশ করলে অন্যরা দুর্বল ভাববে, হাসাহাসি করবে কিংবা বিদ্রূপ করবে। এমনকি জীবনসঙ্গীর কাছ থেকেও কটূক্তি বা খোঁটা শোনার ভয় থাকে। এ কারণে অনেকে চিকিৎসা নেওয়ার পরিবর্তে সমস্যাটি গোপন রাখেন।
ডা. ইশরাত শারমিন রহমানের মতে, এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। পাশাপাশি জীবনসঙ্গীর সহানুভূতি ও মানসিক সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। দোষারোপ বা বিদ্রূপ না করে পাশে দাঁড়ালে আক্রান্ত ব্যক্তির পক্ষে চিকিৎসা নেওয়া সহজ হয়।
কোন সমস্যায় কোন চিকিৎসক দেখাবেন
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, অণ্ডকোষের বিভিন্ন সমস্যা, ইরেক্টাইল ডিসফাংশন, দ্রুত বীর্যপাত ও হার্নিয়ার জন্য ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিতে হবে। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে সার্জারি বিশেষজ্ঞের সহায়তা লাগতে পারে।
গাইনোকোমেশিয়ার চিকিৎসা দেন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা হরমোন বিশেষজ্ঞ। প্রয়োজনে এ ক্ষেত্রেও সার্জারি করা হয়। আর ফিস্টুলার চিকিৎসার জন্য কোলন অ্যান্ড রেকটাল সার্জনের শরণাপন্ন হতে হবে।
দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে এসব বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। তাই লজ্জা বা সংকোচে অসুখ গোপন না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
সূত্র: বিবিসি বাংলা

-6aec7b6a4b006.jpg)
-6aeb43d84dd06.jpg)