Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

ক্যানসারের পাঁচ ধাপ, কোন পর্যায়ে কতটা ঝুঁকি?

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

ক্যানসারের পাঁচ ধাপ, কোন পর্যায়ে কতটা ঝুঁকি?

ফাইল ছবি

Advertisement

ক্যানসার একটি জটিল রোগ। তবে সব ক্যানসারের ঝুঁকি বা চিকিৎসাপদ্ধতি এক রকম নয়। রোগটি শরীরের কোন অঙ্গে হয়েছে, টিউমারের আকার কত বড় এবং তা শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছে কি না, এসবের ওপর নির্ভর করে ক্যানসারের পর্যায় নির্ধারণ করা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ক্যানসার স্টেজিং বলা হয়। রোগের পর্যায় জানা থাকলে চিকিৎসক চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ এবং রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।

সাধারণত ক্যানসারকে শূন্য থেকে চতুর্থ পর্যায় পর্যন্ত পাঁচটি ধাপে ভাগ করা হয়। পর্যায়ের সংখ্যা যত বাড়ে, সাধারণত রোগের বিস্তার ও জটিলতাও তত বাড়ে। তবে ক্যানসারের ধরন অনুযায়ী এই নিয়মের ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

ক্যানসারের পাঁচটি পর্যায়

শূন্য পর্যায় (স্টেজ ০)

এ পর্যায়ে শরীরে অস্বাভাবিক কোষ পাওয়া যায়, কিন্তু সেগুলো আশপাশের টিস্যু বা শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে কার্সিনোমা ইন সিটু বলা হয়। এ অবস্থায় কোষগুলো এখনো প্রকৃত অর্থে আক্রমণাত্মক ক্যানসারে পরিণত হয়নি। তবে চিকিৎসা না করলে পরবর্তী সময়ে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সাধারণত আক্রান্ত কোষ ও আশপাশের কিছু টিস্যু অপসারণের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। এ পর্যায়ের ক্যানসারে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। যেমন, শূন্য পর্যায়ের স্তন ক্যানসারে পাঁচ বছর বেঁচে থাকার হার প্রায় ৯৯ শতাংশ।

প্রথম পর্যায় (স্টেজ ১)

এটি ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়। এ সময় টিউমারের আকার সাধারণত ছোট থাকে এবং আশপাশের টিস্যু বা লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়ে না। অস্ত্রোপচার কিংবা রেডিওথেরাপির মাধ্যমে আক্রান্ত কোষ অপসারণ বা ধ্বংস করা হতে পারে। এ পর্যায়ে শনাক্ত হলে সাধারণত চিকিৎসার ফলাফল ভালো হয়।

দ্বিতীয় পর্যায় (স্টেজ ২)

এ পর্যায়ে টিউমার প্রথম পর্যায়ের তুলনায় কিছুটা বড় হয় এবং আশপাশের টিস্যুতে প্রবেশ করতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাছাকাছি লিম্ফ নোডেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা ও ক্যানসারের ধরন অনুযায়ী অস্ত্রোপচার বা রেডিওথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ পর্যায়ের অনেক ক্যানসার চিকিৎসাযোগ্য এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও ভালো।

তৃতীয় পর্যায় (স্টেজ ৩)

এ পর্যায়ে টিউমার সাধারণত আরও বড় হয় এবং আশপাশের টিস্যু ও লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে চিকিৎসা তুলনামূলক জটিল হয়ে ওঠে। ক্যানসারের ধরন ও অবস্থান অনুযায়ী অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি কিংবা রেডিওথেরাপির সমন্বিত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের তুলনায় এ পর্যায়ে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণত কম থাকে।

চতুর্থ পর্যায় (স্টেজ ৪)

এটি ক্যানসারের সবচেয়ে অগ্রসর পর্যায়। এ সময় ক্যানসার প্রাথমিক স্থান থেকে শরীরের দূরবর্তী অঙ্গেও ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে মেটাস্ট্যাটিক ক্যানসার বলা হয়। এ পর্যায়ে চিকিৎসার লক্ষ্য থাকে ক্যানসারের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ, রোগীর জীবনকাল বাড়ানো এবং কষ্ট কমিয়ে জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি ও অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে।

ক্যানসারের পর্যায় নির্ধারণে টিএনএম পদ্ধতি

ক্যানসারের পর্যায় নির্ধারণে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পদ্ধতিগুলোর একটি হলো টিএনএম। এতে তিনটি বিষয় বিবেচনা করা হয়।

টি : প্রাথমিক টিউমারের আকার ও বিস্তার বোঝায়। টিউমার যত বড় বা বিস্তৃত হয়, সংখ্যাও সাধারণত তত বাড়ে। টি০ অর্থ প্রাথমিক টিউমারের কোনো প্রমাণ নেই।

এন : ক্যানসার কাছাকাছি লিম্ফ নোডে ছড়িয়েছে কি না, তা নির্দেশ করে। এন০ অর্থ লিম্ফ নোডে ক্যানসার ছড়ায়নি।

এম : ক্যানসার শরীরের দূরবর্তী অংশে ছড়িয়েছে কি না, তা বোঝায়। এম০ অর্থ দূরবর্তী অংশে ছড়ায়নি এবং এম১ অর্থ ছড়িয়ে পড়েছে।

এই তিনটি তথ্য একত্র করে ক্যানসারের সামগ্রিক পর্যায় নির্ধারণ করা হয়।

রোগ নির্ণয়ের পর ক্যানসারের পর্যায় কি পরিবর্তন হয়?

সাধারণত ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার সময় যে পর্যায় নির্ধারণ করা হয়, সেটিই রোগীর চিকিৎসার নথিতে উল্লেখ থাকে। পরবর্তী সময়ে রোগের বিস্তার বাড়লেও প্রাথমিক পর্যায়ের তথ্য পরিবর্তন করা হয় না; বরং নতুন তথ্য যুক্ত করা হয়। তবে চিকিৎসার পর ক্যানসার ফিরে এলে নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পর্যায় নির্ধারণ করা হতে পারে।

ক্যানসারের পর্যায় ও গ্রেড এক বিষয় নয়। পর্যায় রোগের বিস্তার বোঝায়, আর গ্রেড ক্যানসার কোষের অস্বাভাবিকতা নির্দেশ করে। সঠিক পর্যায় নির্ধারণের মাধ্যমে চিকিৎসক রোগীর জন্য উপযুক্ত চিকিৎসাপদ্ধতি বেছে নিতে পারেন। তাই ক্যানসার শনাক্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নির্ধারিত চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি।

সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

পুরুষের যে ৫ সমস্যা গোপন রাখলে বাড়ে বিপদ

পুরুষের যে ৫ সমস্যা গোপন রাখলে বাড়ে বিপদ

ডেঙ্গু জ্বর কমার পরই বাড়তে পারে বিপদ, যেসব লক্ষণে সতর্কতা জরুরি

ডেঙ্গু জ্বর কমার পরই বাড়তে পারে বিপদ, যেসব লক্ষণে সতর্কতা জরুরি

ক্যানসার নিয়ে ১০ ভুল ধারণা, আসল সত্য যা

ক্যানসার নিয়ে ১০ ভুল ধারণা, আসল সত্য যা

শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে ক্যাফেইন, বলছে গবেষণা

শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে ক্যাফেইন, বলছে গবেষণা

এনার্জি ড্রিঙ্কস পানে হতে পারে হার্টঅ্যাটাক!

এনার্জি ড্রিঙ্কস পানে হতে পারে হার্টঅ্যাটাক!

হালকা শীতে ত্বকের যত্নে উপটান, জানুন ঘরেই তৈরি করার উপায়

হালকা শীতে ত্বকের যত্নে উপটান, জানুন ঘরেই তৈরি করার উপায়

আরও পড়ুন

ক্যানসারের পাঁচ ধাপ, কোন পর্যায়ে কতটা ঝুঁকি?

ক্যানসারের পাঁচ ধাপ, কোন পর্যায়ে কতটা ঝুঁকি?

পুরুষের যে ৫ সমস্যা গোপন রাখলে বাড়ে বিপদ

পুরুষের যে ৫ সমস্যা গোপন রাখলে বাড়ে বিপদ

ক্যানসার নিয়ে ১০ ভুল ধারণা, আসল সত্য যা

ক্যানসার নিয়ে ১০ ভুল ধারণা, আসল সত্য যা

এক ক্লিকেই জমির পর্চা: ঘরে বসে যেভাবে খুঁজবেন ও পাবেন

এক ক্লিকেই জমির পর্চা: ঘরে বসে যেভাবে খুঁজবেন ও পাবেন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম