এনার্জি ড্রিঙ্কস পানে হতে পারে হার্টঅ্যাটাক!
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শরীরে এনার্জি জোগানোর জন্য অনেকেই এনার্জি ড্রিঙ্কস পান করে থাকেন। কিন্তু এই ড্রিঙ্কস শরীরে এনার্জি বাড়ানোর চেয়ে বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে।
গবেষণায় উঠে এসেছে ক্যাফেইন ও অন্যান্য উত্তেজক উপাদানযুক্ত পানীয় এবং সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে হৃদযন্ত্রের গুরুতর সমস্যা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পেয়েছেন।
আরও উদ্বেগের বিষয়, এই ধরনের পণ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হৃদরোগের রিপোর্টের প্রায় ৪৫ শতাংশই ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সিদের। যে বয়সে শরীরের সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাস সবচেয়ে বেশি, সেই বয়সিদের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে উদ্বেগজনক প্রবণতা।
গবেষণায় কী দেখা গেল?
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এএইচএ) ২০২৬ সালের সম্মেলনে আলোচনার জন্য উপস্থাপিত এই গবেষণায় ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এফডিএর নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডারে জমা পড়া ২৮ হাজার ৩৪৫টি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হয়। এর মধ্যে ৮৫৪টি রিপোর্ট ছিল এনার্জি ড্রিঙ্কস এবং ক্যাফেইন ও অন্যান্য উত্তেজক উপাদানযুক্ত খাদ্য-পরিপূরক সংক্রান্ত। বাকি ২৭ হাজার ৪৯১টি রিপোর্টে এই ধরনের উপাদান ছিল না।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে ক্যাফেইন ও উত্তেজক উপাদানযুক্ত পণ্যের ক্ষেত্রে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের হার প্রায় এগারো গুণ বেশি। হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বাড়ে প্রায় সাড়ে চার গুণ। অস্বাভাবিক হৃদ্স্পন্দন বা ভেন্ট্রিকুলার অ্যারিদমিয়া এবং বুক ধড়ফড়ের হারও প্রায় চার গুণ বেশি। এছাড়া হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়ার ঘটনা প্রায় তিন গুণ বাড়ে, বুকে ব্যথা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও প্রায় দ্বিগুণ।
ক্যাফেইনে কি বিপদ বাড়ে?
ক্যাফেইন শরীরকে সাময়িক ভাবে চনমনে করে, ঘুমের ভাব কাটায় এবং সতর্কতা বাড়ায়। কিন্তু অতিরিক্ত মাত্রায় এই উপাদান শরীরে প্রবেশ করলে হৃদ্স্পন্দন ও রক্তচাপের উপর প্রভাব পড়তে পারে। এনার্জি ড্রিঙ্কসের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও জটিল। কারণ, এতে অনেক সময় বেশি মাত্রায় ক্যাফেইনের পাশাপাশি একাধিক উত্তেজক উপাদান মেশানো থাকে।
চিকিৎসকদের ভাষায়, এনার্জি ড্রিঙ্কস শুধু শরীরের এনার্জি বা সতর্কতা বাড়ায় না, হৃদ্যন্ত্রের উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে। এতে থাকা অতিরিক্ত ক্যাফেইন এবং অন্যান্য উত্তেজক উপাদান হৃদ্যন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এর ফলে অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দনের আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে যায়।
