দাম্পত্যে কথা কমে, বাড়ে দূরত্ব— এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিয়ে বা দাম্পত্য সম্পর্কের ভাঙন সাধারণত হঠাৎ করে ঘটে না। বাইরে থেকে অনেক সময় বিচ্ছেদ আকস্মিক মনে হলেও এর পেছনে দীর্ঘদিনের অভিমান, দ্বন্দ্ব, মানসিক দূরত্ব ও অমীমাংসিত সমস্যা জমতে থাকে। কখনো কখনো আইনি বিচ্ছেদের আগেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মানসিক বিচ্ছেদ ঘটে যায়। মনোবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘ইমোশনাল ডিভোর্স’ বা আবেগের বিচ্ছেদ।
আবেগের বিচ্ছেদ কী?
আবেগের বিচ্ছেদ হলো দাম্পত্য সম্পর্কে একজন সঙ্গীর কাছ থেকে মানসিকভাবে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। এটি অনেকটা নিজের মানসিক সুস্থতা রক্ষার আত্মরক্ষামূলক কৌশল। আইনি বিচ্ছেদের আগে কিংবা পরেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আইনি বিচ্ছেদের আগে এটি সম্পর্কের সম্ভাব্য সমাপ্তির মানসিক প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করে। আর বিচ্ছেদের পর এটি পুরোনো সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে।
বারবার কষ্ট পাওয়া, অপমানজনক মন্তব্য, ক্ষমা না চাওয়া কিংবা অমীমাংসিত ঝগড়া ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে। একপর্যায়ে একজন সঙ্গী সম্পর্কটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা ছেড়ে দিতে পারেন।
কেন তৈরি হয় মানসিক দূরত্ব?
দাম্পত্য সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলতে থাকলে এবং তা সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ না থাকলে আবেগের বিচ্ছেদ ঘটতে পারে। অনেক সময় একজন সঙ্গী সম্পর্ক থেকে মানসিকভাবে সরে গেলেও অন্যজন বিষয়টি বুঝতে পারেন না। ফলে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত তার কাছে আকস্মিক মনে হয়।
যিনি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন, তিনি হয়তো দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কের উন্নতির চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আশানুরূপ পরিবর্তন না আসায় নিজের মানসিক শান্তির জন্য দূরত্ব তৈরি করেন। অন্যদিকে, যিনি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেন না, তিনি সম্পর্ক বাঁচানোর জন্য বারবার অনুরোধ করতে পারেন। কখনো উদ্বেগ ও হতাশা থেকে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা, অনুসরণ, হুমকি কিংবা হয়রানির মতো আচরণও দেখা দিতে পারে।
এ সময় একাকী ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা কাজ করে। বিশেষ করে যিনি বিচ্ছেদের জন্য প্রস্তুত নন, তাঁর পক্ষে পরিস্থিতি মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
আবেগের বিচ্ছেদ সামলানোর পাঁচ উপায়
১. বাস্তবতা মেনে নিন
প্রথমেই পরিস্থিতি ও সঙ্গীর সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন। সম্পর্ক আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সব সময় সম্ভব নয়। তবে বিচ্ছেদের পরও সাবেক স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পারস্পরিক সম্পর্ক সম্মানজনক রাখা সম্ভব।
২. আবেগ নিয়ন্ত্রণ করুন
রাগ, হতাশা, ভয় ও কষ্ট বিচ্ছেদের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তবে এসব আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো। নিজের অনুভূতি বুঝতে শিখুন এবং মানসিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করুন।
৩. মনোবিদের সহায়তা নিন
আবেগের বিচ্ছেদ মানসিকভাবে চাপের হতে পারে। এ সময় লাইসেন্সপ্রাপ্ত মনোবিদ বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উপকারী। তিনি পরিস্থিতি বুঝতে, মানসিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং নতুনভাবে জীবন শুরু করতে সহায়তা করতে পারেন।
৪. নিজের যত্ন নিন
সম্পর্কের ভাঙনের মধ্যে নিজের যত্ন নেওয়া ভুলে যাবেন না। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম, পছন্দের কাজ এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক সুস্থতায় সহায়তা করতে পারে। নিজের প্রয়োজন ও ভালো থাকার দিকে মনোযোগ দিন।
৫. ব্যক্তিগত সীমারেখা তৈরি করুন
বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলাকালে মানসিক ও শারীরিক সীমারেখা নির্ধারণ করা জরুরি। কোন ধরনের যোগাযোগ বা আচরণ আপনার মানসিক শান্তি নষ্ট করছে, তা চিহ্নিত করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী যোগাযোগের সীমা নির্ধারণ করুন।
বিচ্ছেদের মানসিক পর্যায়গুলো কী?
আবেগের বিচ্ছেদ সাধারণত একদিনে ঘটে না। ধীরে ধীরে কয়েকটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে মানুষ এ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। এর মধ্যে রয়েছে—পরিস্থিতি অস্বীকার, রাগ, অপরাধবোধ, ভয়, শোক, নতুনভাবে নিজেকে গড়ে তোলা এবং শেষ পর্যন্ত বাস্তবতা মেনে নেওয়া।
তবে সবার ক্ষেত্রে এসব পর্যায় একইভাবে বা একই ক্রমে আসে না।
দাম্পত্য সম্পর্কে আবেগের বিচ্ছেদ একটি কঠিন অভিজ্ঞতা। এটি মানুষের মানসিক স্থিতি, আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বাস্তবতা মেনে নেওয়া, নিজের আবেগের যত্ন নেওয়া এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সহায়তা গ্রহণের মাধ্যমে এ পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। সম্পর্কের সমাপ্তি মানেই জীবনের সমাপ্তি নয়; বরং নিজের সুস্থতা ও সুখের দিকে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও হতে পারে।
সূত্র: ম্যারিজ ডট কম

-6aeb43d84dd06.jpg)