স্তনে পিণ্ড মানেই কি ক্যানসারের ঝুঁকি?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারীদের ক্যানসারের মধ্যে স্তন ক্যানসার অন্যতম। তাই স্তনে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে সচেতন হওয়া জরুরি। তবে স্তনে ব্যথা, সিস্ট কিংবা চাকা দেখা দিলেই সেটিকে ক্যানসার ভেবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কারণ, স্তনে বিভিন্ন ধরনের নিরীহ টিউমার বা পিণ্ডও হতে পারে।
স্তনের টিস্যুতে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা পরিবর্তনের ফলে পিণ্ড তৈরি হলে তাকে টিউমার বলা হয়। কম বয়সি নারীদের স্তনে এমন চাকা দেখা দিলে, সেটি নড়াচড়া করলে এবং ব্যথা না থাকলে তা ফাইব্রোএডেনোমা বা নিরীহ টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার সংক্রমণ বা ফোড়ার কারণে চাকা তৈরি হলে সাধারণত ব্যথা হয় এবং ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে, স্তনের টিউমার ক্যানসারজনিত হলে তা দ্রুত বড় হতে পারে। এ ক্ষেত্রে স্তনের ত্বকে পরিবর্তন, বগলে চাকা কিংবা নিপল দিয়ে রক্ত বা লালচে তরল বের হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া হরমোনের পরিবর্তন বা সিস্টের কারণেও স্তনে পিণ্ড তৈরি হতে পারে।
করণীয় কী?
স্তনে কোনো অস্বাভাবিক চাকা বা পিণ্ড অনুভব করলে অবহেলা না করে সার্জারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী আলট্রাসাউন্ড, ম্যামোগ্রাফি কিংবা উভয় পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন। প্রয়োজনে কোর বায়োপসি বা এফএনএসি পরীক্ষার মাধ্যমে টিউমারের প্রকৃতি নির্ণয় করা হয়। হরমোনজনিত সমস্যা আছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হতে পারে।
কোর বায়োপসি নিয়ে ভয় পাওয়ার কারণ নেই
চিকিৎসক কোর বায়োপসি করার পরামর্শ দিলে তা করানো জরুরি। অনেকের ধারণা, বায়োপসি করলে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে এই আশঙ্কায় পরীক্ষা এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। বায়োপসির মাধ্যমে টিউমারটি ক্যানসার কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়।
সব টিউমারেই কি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন?
স্তন ক্যানসার ছাড়া অন্য কারণে তৈরি টিউমার আকারে ২ সেন্টিমিটারের বেশি হলে বা ক্রমাগত বড় হতে থাকলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে। ফোড়া বা সংক্রমণজনিত টিউমার ওষুধে না সারলে কিংবা দীর্ঘদিনেও না কমলে অস্ত্রোপচার বিবেচনা করা হয়। তবে ছোট সিস্টের ক্ষেত্রে সাধারণত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না।
স্তনে চাকা মানেই ক্যানসার নয়, তবে কোনো চাকা বা অস্বাভাবিকতাকে অবহেলা করাও ঠিক নয়। সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শের মাধ্যমেই এর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব।
