ব্যথা নেই, লক্ষণও নেই— তবু স্তনে বাসা বাঁধতে পারে ক্যানসার
Advertisement
যুগান্তর ডেস্কড
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্তন ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সাফল্য ও রোগীর জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়। এমনকি প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে পাঁচ বছর বেঁচে থাকার হার ৯৬ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। এ কারণে নারীদের বয়স ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়মিত স্তন ক্যানসার পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তুরস্কের বিরুনি বিশ্ববিদ্যালয় মেডিসিন অনুষদ হাসপাতালের জেনারেল সার্জারি বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ড. সেলমান এমিরোগলু আনাদোলু এজেন্সিকে (এএ) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, নারীদের মধ্যে স্তন ক্যানসার অন্যতম সাধারণ ক্যানসার। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার ফলাফল বেশ ভালো হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগের শুরুতে কোনো লক্ষণও দেখা যায় না। নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এমন ছোট টিউমারও শনাক্ত করা সম্ভব, যা হাত দিয়ে স্পর্শ করেও বোঝা যায় না।
এমিরোগলু বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার শনাক্ত হলে রোগীর আয়ু ও চিকিৎসার সাফল্য বাড়ে। পাশাপাশি সীমিত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্তন অক্ষত রাখার সুযোগও তৈরি হয়।
তুরস্কে ৪০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী নারীদের প্রতি দুই বছর অন্তর ম্যামোগ্রাম এবং প্রতিবছর ক্লিনিক্যাল স্তন পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ২০ বছর বয়স থেকেই নারীদের নিজেদের স্তনের স্বাভাবিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞের মতে, স্তনে কোনো পিণ্ড বা পরিবর্তন দেখা দিলে ব্যথা না থাকলেও সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়। আবার পরিবারে স্তন ক্যানসারের ইতিহাস না থাকলেও ঝুঁকি একেবারে নেই, এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। কারণ, আক্রান্ত অনেক নারীর পরিবারে এ রোগের পূর্ব ইতিহাস থাকে না। যাদের পরিবারের সদস্যদের অল্প বয়সে স্তন বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসার ধরা পড়েছে, তাদের সাধারণ স্ক্রিনিংয়ের বয়সের আগেই ঝুঁকি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে বলেন, স্ব-পরীক্ষা কখনোই ম্যামোগ্রামের বিকল্প নয়।
চিকিৎসায় বাড়ছে ব্যক্তিগত পদ্ধতির ব্যবহার
স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এখন সব রোগীর জন্য একই চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় না। টিউমারের পর্যায়, আকার, হরমোন রিসেপ্টর এবং অন্যান্য জৈবিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে রোগীর জন্য আলাদা চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়।
এমিরোগলু জানান, উপযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে স্তন-সংরক্ষণকারী অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, হরমোন থেরাপি, লক্ষ্যভিত্তিক ওষুধ এবং ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
বাগচিলার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা হাসপাতালের জেনারেল সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মেরভে টোকোচিনও নারীদের বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তার ভাষ্য, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হওয়া স্তন ক্যানসারে পাঁচ বছর বেঁচে থাকার হার ৯৬ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
টোকোচিন বলেন, চিকিৎসার লক্ষ্য শুধু ক্যানসার নির্মূল করা নয়, রোগীর জীবনমান ও শারীরিক অখণ্ডতা বজায় রাখাও। টিউমারের জৈবিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির সমন্বয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ওষুধের মাধ্যমেও রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
উপসর্গহীন পরিবর্তন
টোকোচিনের মতে, ম্যামোগ্রামের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো— রোগের লক্ষণ প্রকাশের আগেই স্তনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন শনাক্ত করা যায়। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ক্যালসিফিকেশন ও কোষের এমন কিছু পরিবর্তনও ধরা পড়ে, যা এখনো আক্রমণাত্মক ক্যানসারে পরিণত হয়নি। ফলে রোগের অবস্থা মূল্যায়ন করে আগেভাগেই চিকিৎসার পরিকল্পনা করা সম্ভব হয়।
তিনি জানান, ম্যামোগ্রামে বিকিরণের মাত্রা কম। উপযুক্ত বয়সের নারীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের সুবিধা বিকিরণজনিত ঝুঁকির তুলনায় অনেক বেশি।
কমতে পারে ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার গ্রহণ, মদ্যপান এড়িয়ে চলা এবং সম্ভব হলে শিশুকে বুকের দুধ পান করানো স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
টোকোচিন বলেন, ভবিষ্যতের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমিয়ে রোগীর জন্য আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক পদ্ধতি গুরুত্ব পাবে। তবে এসব পদ্ধতির কয়েকটি এখনো গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে।
