Logo
Logo
×

Advertisement

ডাক্তার আছেন

ইস্কেমিক স্ট্রোক কী, আক্রান্ত রোগীর ফিরে আসার সম্ভাবনা কতটুকু?

Advertisement

Icon

ডা. তাহমীদ কামাল

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম

ইস্কেমিক স্ট্রোক কী, আক্রান্ত রোগীর ফিরে আসার সম্ভাবনা কতটুকু?

স্ট্রোক। প্রতীকী ছবি

Advertisement

আমরা স্বভাবতই হার্ট অ্যাটাকের রোগীর সঙ্গে স্ট্রোককে মিলিয়ে ফেলি। স্ট্রোক হচ্ছে মস্তিষ্কের রোগ। আর হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে হৃদপিন্ডের রোগ। 

মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল হঠাৎ বাধাগ্রস্ত হলে অথবা রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হয়। রক্তনালি বন্ধ হয়ে হওয়া স্ট্রোককে বলা হয় ইস্কেমিক স্ট্রোক এবং রক্তক্ষরণের কারণে হওয়া স্ট্রোককে বলা হয় হেমোরেজিক স্ট্রোক। উভয় অবস্থাই জরুরি চিকিৎসার বিষয়। স্ট্রোক মস্তিষ্কের রোগ; হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে একে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। 

প্রথম কয়েকটি সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

স্ট্রোক সন্দেহ হলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে ফোন করুন এবং সম্ভব হলে অ্যাম্বুলেন্সের সাহায্য নিন। রোগীকে নিজে গাড়ি চালাতে দেবেন না। লক্ষণ শুরুর সময় লিখে রাখুন। কখন শুরু হয়েছে জানা না থাকলে, তাকে সর্বশেষ কখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেছে, সেটি চিকিৎসককে জানানোর জন্য মনে রাখুন। 

গিলতে সমস্যা আছে কি না বোঝার আগেই রোগীকে পানি, খাবার বা মুখে ওষুধ দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। এগুলো শ্বাসনালিতে ঢুকে যেতে পারে। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া অ্যাসপিরিনও দেবেন না; সব স্ট্রোক রক্ত জমাটের কারণে হয় না, কিছু স্ট্রোকে রক্তক্ষরণ থাকে। 

লক্ষণ সেরে গেলেও বিপদ শেষ নয়

অনেক সময় কয়েক মিনিট পর কথা স্বাভাবিক হয়ে যায় বা হাতের দুর্বলতা কমে আসে। এতে মনে হতে পারে, আর হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এটি ক্ষণস্থায়ী মস্তিষ্কের রক্ত চলাচলের সমস্যার লক্ষণ বা টিআইএ হতে পারে। বাড়িতে বসে টিআইএ ও স্ট্রোক আলাদা করা সম্ভব নয়। লক্ষণ চলে গেলেও জরুরি মূল্যায়ন প্রয়োজন। 

দ্রুত হাসপাতালে গেলে কী লাভ

হাসপাতালে পরীক্ষা ও মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান বা এমআরআইয়ের মাধ্যমে স্ট্রোকের ধরন নির্ধারণ করা হয়। উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে রক্তের জমাট গলানোর চিকিৎসা অথবা বিশেষ পদ্ধতিতে জমাট অপসারণের সুযোগ থাকতে পারে। রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকের চিকিৎসা ভিন্ন। কোন চিকিৎসা দেওয়া যাবে, তা নির্ভর করে রোগীর অবস্থা, পরীক্ষার ফল এবং সময়ের ওপর। 

তবে কিছুটা দেরি হয়ে গেছে মনে করে হাসপাতালে যাওয়া বন্ধ করা যাবে না। লক্ষণ নিয়ে ঘরে অপেক্ষা করার চেয়ে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নেওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত।

স্ট্রোকের পরও ফিরে আসার পথ আছে

স্ট্রোকের পর চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পুনর্বাসন। রোগী চিকিৎসাগতভাবে স্থিতিশীল হলে প্রয়োজন অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি, দৈনন্দিন কাজের প্রশিক্ষণ, কথা বলা ও গিলতে পারার থেরাপি এবং মানসিক সহায়তা শুরু করা হয়। লক্ষ্য হলো রোগীর সক্ষমতা, স্বাধীনতা ও জীবনমান যতটা সম্ভব ফিরিয়ে আনা। 

পরিবারের দায়িত্ব রোগীকে সাহস দেওয়া, তার কথা মন দিয়ে শোনা এবং চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পরিকল্পনা অনুসরণে সহায়তা করা। কথা বলতে অসুবিধা হচ্ছে বলে তার মতামত বা মর্যাদাকে ছোট করে দেখা উচিত নয়। পরিবারের যত্নদাতার বিশ্রাম ও সহায়তার প্রয়োজনকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশ্ব স্ট্রোক দিবসে প্রতিটি পরিবারের একটি প্রস্তুতি থাকতে পারে—স্ট্রোকের লক্ষণ জানা, স্থানীয় জরুরি নম্বর কাছে রাখা এবং প্রয়োজনে দ্রুত সাহায্য চাওয়া। মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত দুর্বল হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়াকে সাময়িক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাবেন না।

স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা নয়—অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা নিন। আপনার দ্রুত সিদ্ধান্ত একজন মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

রক্তচাপ স্বাভাবিক হলেও থাকতে পারে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি

রক্তচাপ স্বাভাবিক হলেও থাকতে পারে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি

স্ট্রোক প্রতিরোধ যোগ্য

স্ট্রোক প্রতিরোধ যোগ্য

হৃদরোগ কি শুধু বয়স্কদের? তরুণদের জন্যও ঝুঁকি

হৃদরোগ কি শুধু বয়স্কদের? তরুণদের জন্যও ঝুঁকি

দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের প্রায় ৬৯ শতাংশের লিভারে চর্বি

দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের প্রায় ৬৯ শতাংশের লিভারে চর্বি

৩০-এর আগেই ধমনিতে প্লাক, নীরবে বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি

৩০-এর আগেই ধমনিতে প্লাক, নীরবে বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি

নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া, ব্যায়াম—তারপরও হতে পারে হৃদরোগ, নেপথ্যে এই ৫ কারণ

নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া, ব্যায়াম—তারপরও হতে পারে হৃদরোগ, নেপথ্যে এই ৫ কারণ

আরও পড়ুন

ইস্কেমিক স্ট্রোক কী, আক্রান্ত রোগীর ফিরে আসার সম্ভাবনা কতটুকু?

ইস্কেমিক স্ট্রোক কী, আক্রান্ত রোগীর ফিরে আসার সম্ভাবনা কতটুকু?

টিবি আক্রান্ত রোগের লক্ষণ

টিবি আক্রান্ত রোগের লক্ষণ

রক্তচাপ স্বাভাবিক হলেও থাকতে পারে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি

রক্তচাপ স্বাভাবিক হলেও থাকতে পারে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি

কতদিন পরপর ‘ইমারজেন্সি পিল’ খেলে নিরাপদ? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যা বলছে

কতদিন পরপর ‘ইমারজেন্সি পিল’ খেলে নিরাপদ? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যা বলছে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম