প্রোস্টেট ক্যানসার পুরুষদের যেসব জটিলতা সৃষ্টি করে
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পুরুষদের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যানসার একটি পরিচিত স্বাস্থ্যঝুঁকি। সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তবে কম বয়সিদের মধ্যেও আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বাড়ে।
প্রোস্টেট হলো মূত্রাশয়ের ঠিক নিচে অবস্থিত ছোট একটি গ্রন্থি, যা পুরুষ প্রজননতন্ত্রের অংশ। এই গ্রন্থিতে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি থেকেই প্রোস্টেট ক্যানসারের সৃষ্টি হয়। রোগটি অনেক সময় ধীরে ধীরে বাড়ে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।
প্রোস্টেট ক্যানসারের লক্ষণ
প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন উপসর্গ না থাকলেও রোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—
- ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, বিশেষ করে রাতে।
- প্রস্রাব শুরু করতে বা শেষ করতে সমস্যা।
- প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়ে যাওয়া।
- প্রস্রাব বা বীর্যের সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
- প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া।
- বীর্যপাতের সময় ব্যথা।
- কোমর, তলপেট বা শ্রোণী অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা।
ক্যানসার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে হাড়ে ব্যথা, ওজন কমে যাওয়া, ক্লান্তি এবং পা ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
যেসব কারণে ঝুঁকি বাড়ে
বয়স প্রোস্টেট ক্যানসারের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। এ ছাড়া পরিবারের কারও এ রোগের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। স্থূলতা, ধূমপান, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং কিছু জিনগত পরিবর্তনও ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
কীভাবে শনাক্ত করা হয়?
প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত করতে পিএসএ (PSA) রক্ত পরীক্ষা, ডিজিটাল রেকটাল পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড ও এমআরআই করা হতে পারে। প্রয়োজনে বায়োপসির মাধ্যমে ক্যানসার নিশ্চিত করা হয়। তবে পিএসএ পরীক্ষায় মাত্রা বেশি হলেই ক্যানসার হয়েছে, এমনটা নিশ্চিত নয়।
চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
রোগের পর্যায়, রোগীর বয়স ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন থেরাপি, হরমোন থেরাপি, কেমোথেরাপি ও অন্যান্য পদ্ধতি। প্রাথমিক পর্যায়ের ধীরগতির ক্যানসারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত পর্যবেক্ষণও করা হতে পারে।
প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধের নিশ্চিত উপায় না থাকলেও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান পরিহার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বিশেষ করে ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সি পুরুষ এবং যাদের পরিবারে এ রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের সঙ্গে স্ক্রিনিং নিয়ে আলোচনা করা উচিত।
প্রস্রাবের সমস্যা বা অন্য কোনো উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে অবহেলা না করে ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসার ফলাফল ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

-6aeb265b9b3fc.jpg)
