এবার পদ্মায় চায়না দোয়ারির ফাঁদে আটকা পড়ল মেছোবাঘ
Advertisement
চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীর চরহরিরামপুর ইউনিয়নে চরশালেপুর জলমহালের সার্ভিস ঘাট নামক এলাকায় বুধবার সকালে জেলেদের চায়না দোয়ারির ফাঁদে আটকা পড়েছে একটি মেছোবাঘ।
আটকেপড়া মেছোবাঘটি পানি থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে এখলাস বেপারী (৪৫) ও লুৎফর শেখ (৩৮) নামে দুইজন আহত হয়েছেন। আহতরা চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ভ্যাকসিন নিয়েছেন।
মেছোবাঘটি পদ্মাপাড়ের সার্ভিস ঘাটে বেঁধে রাখা হয়। এ সময় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং উৎসুক জনতা একনজর দেখার জন্য ভিড় জমাতে থাকেন। পরে বন বিভাগে খবর দিলে উপজেলা বন কর্মকর্তা ফজলে করিম সরেজমিন গিয়ে মেছোবাঘটি উদ্ধার করে নিয়ে যান।
ফজলে করিম বলেন, মেছোবাঘটি উদ্ধারের পর প্রথমে উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হবে। পরে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতনদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রাণীটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে পদ্মা নদীর সার্ভিস ঘাট এলাকায় একলাশ বেপারী নামক এক জেলে মাছ ধরার জন্য পেতে রাখা চায়না দোয়ারি জাল তুলতে গেলে এর ভেতর থেকে প্রচণ্ড গর্জনের শব্দ শুনতে পান। পরে সে কাছে গিয়ে দেখতে পান একটি পাখি খেতে গিয়ে মেছোবাঘটি দোয়ারির ভেতরে আটকা পড়েছে। এ সময় সে আরেক জেলে লুৎফর শেখকে ডেকে নিয়ে দুজনে মিলে মেছোবাঘটি উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসেন। চায়না দোয়ারির ভেতর থেকে উদ্ধারের সময় মেছোবাঘের থাবায় দুজনই আহত হন।
চরহরিরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির বেপারী বলেন, চলতি বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদী ও জলাভূমি এলাকায় খাদ্যের সন্ধানে এসে মেছোবাঘটি জেলেদের চায়না দোয়ারিতে আটকা পড়েছে।
তিনি বলেন, মেছোবাঘ বাংলাদেশের সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী। এ প্রাণী সাধারণত মাছ, ব্যাঙ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী শিকার করে এবং নদী, খাল, বিল ও অন্যান্য জলাভূমি সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে। তাই এসব প্রাণী দেখা গেলে সেটিকে ক্ষতি না করে বন বিভাগের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা উচিত। আমরা মেছোবাঘটি পেয়ে তার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছি।
