Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বাঁশখালীর ৩০ হাজার মাটির ঘর

Icon

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বাঁশখালীর ৩০ হাজার মাটির ঘর

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বাঁশখালীর ৩০ হাজার মাটির ঘর

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর কিছু এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। কিন্তু কিছু এলাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করায় ভেসে উঠছে ভয়াবহ চিত্র। ভেঙে যাচ্ছে হাঁটুপানিতে ডুবে থাকা কাঁচা মাটির ঘরগুলো।

উপজেলা প্রশাসন ও ক্ষতিগ্রস্তদের সূত্রে জানা যায়, এবারের বন্যায় বাঁশখালীতে অন্তত ৩০ হাজার মাটির ঘর ভেঙে পড়েছে। কৃষি বীজতলা, আউশধান, পুকুর, মৎস্য চাষ ও বিভিন্ন সবজি ফসল নষ্ট হয়ে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে সহস্রাধিক গ্রামীণ সড়ক ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে।

বুধবার সকালে পৌরসভার আশকরিয়াপাড়া, মহাজনপাড়া, রঙিয়াঘোনা, ও বাহারছড়া  ইউনিয়নের ইলশা, রত্নপুর, চাপাছড়ী, ছনুয়া ইউনিয়নের মধুখালি, ছেলবন, জমিলা পাড়া, সাম্বলীপাড়া, গন্ডামারা ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি কমে গেছে। গ্রামীণ সড়কগুলোতে বন্যায় ভয়াবহতার ছাপ ভেসে উঠেছে। ছনুয়া, মধুখালি, ছেলবন, বাহারছড়া, কাথারিয়া, খানখানাবাদ, পুকুরিয়া, সরল খালাইচ্চ্যার দোকান, বড়ুয়ার টেক, বড়ঘোনা ও বৈলছড়ীতে এখনো কোমরপানি, কোথাও হাঁটুপানি রয়েছে। 

বাহারছাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম (ইউনুস) বলেন, এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাহারছাড়া ইউনিয়ন। এখানে এখনো অনেক মানুষ পানি বন্দি অবস্থায় আছে। অনেকের উনুনে আগুন জ্বলছে না। এখানে পর্যাপ্ত ত্রাণ নেই। বিভিন্ন সংগঠন কিছু কিছু শুকনো খাবার দিচ্ছে। সরকারিভাবে কিছু চাল দেওয়া হয়েছে নিদিষ্ট কিছু পরিবারকে। এখানে মানুষ এখনো অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। অসংখ্য গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। 

পশ্চিম গন্ডামারা লবণ সমিতির সভাপতি আবু আহমেদ জানান, এবারের বন্যার শুধু গন্ডামারা মৎস্য ঘের গুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে স্থানীয় মৎস্য চাষিদের প্রায় ২০ কোটি টাকার কয়- ক্ষতি হয়েছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার জানান, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার টানা অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে  জনজীবনের পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য খাতেও নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়। এবারের বন্যায় বাঁশখালীতে প্রায় আড়াই হাজার পুকুর এবং ৩১০টি চিংড়ি ঘের তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বন্যায় কৃষি খাতই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। আমরা প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করেছি। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে মাঠপর্যায়ে পুনরায় যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন জানান, দুর্গত এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে। ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে শিগগিরই আপনাদেরকে জানানো হবে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গ্রুপ থেকে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, বুধবার পর্যন্ত ১২০ মেট্রিক টন চাল ও ৬ হাজার পরিবারে মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেছি। আমাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .