চালককে হত্যা করে রিকশা ছিনতাই
Advertisement
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
গোয়ালন্দ ঘাট থানা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে চালককে হত্যা করে তার ব্যবহৃত রিকশাটি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হতভাগ্য চালকের নাম জাহিদ বিশ্বাস (৪২)। তিনি গোয়ালন্দ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের জবানিপাড়ার জামাল বিশ্বাসের ছেলে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চামেলী পার্ক নামক এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ।
জাহিদের পরিবারে বয়স্ক বাবা, মা, স্ত্রী এবং একটি ছেলে ও একটি মেয়েসন্তান রয়েছে। তার মৃত্যুতে পরিবারটি চরম দুর্দশার মধ্যে পড়ে গেল। তার মৃত্যুতে পরিবার, এলাকাবাসী এবং অন্যান্য রিকশা চালকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাহিদ বিশ্বাস সাধারণত রাতে রিকশা চালান। রিকশার ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ৪-৫ দিন তিনি উপার্জনহীন অবস্থায় বাড়িতেই বসে ছিলেন। পরবর্তীতে ধারদেনা করে নতুন ব্যাটারি লাগিয়ে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে রিকশাটি নিয়ে তিনি বাড়ি হতে বের হন; কিন্তু বৃহস্পতিবার সারারাত এমনকি শুক্রবার দুপর পর্যন্ত বাড়িতে ফেরেন না। ইতোমধ্যে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে তাকে নানা জায়গায় খুঁজতে থাকেন।
শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় লোকজন চামেলি পার্কের রাস্তার ঢালে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানা পুলিশে খবর দেন। ফেসবুকেও লাশের ছবি শেয়ার করেন কেউ কেউ। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজনও সেখানে ছুটে গিয়ে লাশের পরিচয় শনাক্ত করেন।
সংবাদ পেয়ে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম এবং গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
নিহত জাহিদের বাবা জামাল বিশ্বাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবি করছি। ওর উপার্জন দিয়ে আমাদের পরিবারটা চলত। এখন আমাদের কী হবে। ওর অসহায় স্ত্রী-সন্তানের কী হবে?
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, সংবাদ পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার এবং সুরতহাল প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে এ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে তার ব্যবহৃত রিকশাটি ছিনিয়ে নিতেই দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে থাকতে পারে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
