ভালুকায় পৃথক ঘটনায় চার শ্রমিকের মৃত্যু
Advertisement
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভালুকায় পৃথক ঘটনায় চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার উপজেলার পাড়াগাঁও গ্রামের এক্সিল্যান্ট সিরামিক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি কারখানার ইটিপি প্ল্যান্টের গভীর গর্তে নেমে অচেতন হয়ে পড়েন দুই শ্রমিক। পরে তাদের হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া ভরাডোবায় অবস্থিত এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল লিমিটেড নামে আরেক কোম্পানিতে কাজের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান এক শ্রমিক। আর শুক্রবার রাতে জামিরদিয়ায় এনভয় টেক্সটাইল মিলস কারখানার কাপড়ের রোলে পড়ে আরেক শ্রমিকর মৃত্যু হয়েছে।
পাড়াগাঁও’র এক্সিল্যান্ট সিরামিক্সে মৃত দুই শ্রমিক হলেন নেত্রকোণার খালিয়াজুরীর বলদী গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে রুমেল মিয়া (১৮) ও খুলনার কয়রার উপজেলার নাখশা গ্রামের ফারুক ঢালীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৩)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে এক্সিল্যান্ট সিরামিক্সে ইটিপি প্ল্যান্টের জন্য ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য, ৫০ ফুট প্রস্থ ও ১৫ ফুট গভীর গর্ত করে চার পাশ ইটের দেয়াল দিয়ে ছাদে রডের ঢালাই দেওয়া হয়। শনিবার সকালে ছাদের ঢালাইয়ের সাটারিং খোলার জন্য মই দিয়ে প্রথমে শফিকুল গর্তে নামেন। তিনি ভেতরে নেমে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে উদ্ধারে নামেন ওয়েলডিং মিস্ত্রি রুমেল। ভেতরে গিয়ে তিনিও অচেতন হয়ে পড়েন। পরে শ্রমিকরা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ভালুকা সরকারি হাসপাতালে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, কারখানা কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে তাদের মৃত্যু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ৬ ফুটের বেশি গর্তে নামতে হলে অক্সিজেন নিয়ে নামতে হবে। অথচ এটি ১৫ ফুট গভীর। সেখানে মিথাইল গ্যাস নির্গত হয়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।
কারখানাটির স্যানিটারি প্ল্যান্টের ম্যানেজার অভিনাষ কুণ্ডু বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইটিপি প্ল্যান্টের গর্তে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে তারা অচেতন হয়ে পড়েন।
ময়মনসিংহ ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৫-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) গোপীনাথ কানজি লাল জানান, নির্মাণাধীন ইটিপি প্ল্যান্টের গর্তের সাটারিং খুলতে গিয়ে প্রথমে শফিকুল, পরে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে ওয়েলডিং মিস্ত্রি রুমেল অক্সিজেন স্বল্পতায় অচেতন হয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় দুইটি অপমৃত্যু মামলা হবে।
এদিকে শনিবার সকালে ভরাডোবার এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলে ডিজাইন সেকশনে কাজ করার সময় আল আমীন (২৮) নামে এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশালের কোনাবাড়ি গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
প্রতিষ্ঠানটির আইটি ম্যানেজার মো. সাইফ উদ্দিন জানান, সকালে কাজ করার সময় আল আমীন অসুস্থ বোধ করলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়। কোনো অভিযোগ না থাকায় পরিবারের সদস্যরা আল আমীনের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিয়ে গেছেন।
এছাড়া শুক্রবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার জামিরদিয়ায় এনভয় টেক্সটাইল মিলে ফিনিশিং সেকশনে কাজের সময় কাপড়ের রোলের ভেতরে পড়ে জাবেদ হোসেন (২৬) এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের কাদিরপুর গ্রামের মো. আমির হোসেনের ছেলে।
এনভয় টেক্সটাইল মিলের ম্যানেজার সারোয়ার আলম জানান, জাবেদ কাজের সময় অসাবধানবশত রোলারের ওপর পড়ে আহত হন। তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
