অপারেশনের পর কলেজছাত্রীর মৃত্যু, ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
Advertisement
ফরিদপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
আয়েশা আফরিন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার বেসরকারি হাসপাতাল আল-জারায় অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনের পর এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
রোববার বিকালে ফরিদপুর জেলা সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান এ কমিটি গঠন করেন।
ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে ‘তদন্ত কমিটি’ শীর্ষক ওই চিঠির সূচনায় বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত আল-জারা প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হাবেলী রাজাপুর, সদর, ফরিদপুরে ভুল অপারেশনে আয়েশা আফরিন (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, গত ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা নিয়ে আয়েশা আফরিনকে আল-জারা প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফরিদপুরে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আতিকুল আহসান রাত ১০টার দিকে রোগীকে অপারেশন করেন। অপারেশনের পর আয়েশা আফরিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রেজোয়ান মোল্লা হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় এবং ১৭ জুলাই শুক্রবার সকালে আয়েশা আফরিন মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর সহপাঠী ও স্বজনরা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেন।
তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ফরিদপুরের ডেপুটি সিভিল সার্জন শাহ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজাকে। ওই কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা মো. আল আমিনকে। এছাড়া সদস্য করা হয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা নূপুর পাল এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার সন্দীপন গাইনকে।
এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি ডেপুটি সিভিল সার্জন শাহ মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বলেন, রোববার বিকালে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ পেয়েছি।
তিনি বলেন, সব সদস্যকে জানিয়ে এবং বাদী ও বিবাদীদের অবগত করে তদন্তের কাজ শুরু করতে ন্যূনতম আরও দুই দিন লেগে যাবে।
আয়েশা আফরিন জেলার সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কৈলাশের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী লিটন মাতুব্বরের মেয়ে। তিনি ফরিদপুর সরকারি ইয়াছিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
নিহতের মা আলেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশন করাতে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম; কিন্তু চিকিৎসকের ভুলের কারণে আজ আমার মেয়েকে হারাতে হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. আতিকুল আহসানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় অপারেশনের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, রোগীর স্বজনদের পীড়াপীড়িতে এ অপারেশনটি করেছেন।
তিনি বলেন, অপারেশনের পর যেকোনো রোগীকে অবজারভেশনে রাখতে হয়। রোগীর স্বাভাবিক হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। তবে এ রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকলে দ্রুত আইসিইউ সাপোর্টের এক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
