জুলাই হামলার মামলায় শীর্ষ মাদক কারবারী কালাম জেলহাজতে
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আবুল কালাম আজাদ (৪৬) রাজশাহীর গোদাগাড়ীর একজন শীর্ষ মাদক কারবারী। তার নামে মাদকের সাতটি মামলা রয়েছে দেশের বিভিন্ন থানায়। ঢাকার একটি মাদক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলেও সেটিতে জামিনে আছেন। পদ না থাকলেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সে পুলিশের তালিকাভুক্ত একজন শীর্ষ মাদক কারবারী। কালাম দীর্ঘদিন ঢাকায় ছিলেন। ইয়াবা ও হেরোইন ব্যবসা করে বিপুল টাকা পয়সার মালিক হয়েছেন। তার নামে থাকা মাদকের অধিকাংশ মামলাও ঢাকার সাভার লালবাগসহ বিভিন্ন থানার। কালামের বাবার নাম রবু বাগচি।
এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর নিজ গ্রাম গোদাগাড়ী পৌরএলাকার মহিষাল বাড়ির শিবসাগরে ফেরেন পরিবার নিয়ে। মাদক কারবারের পাশাপাশি বাইপাস সড়কের ধারে একটি ইটভাটা দেন। গত কয়েকদিন আগে স্ত্রীসহ গোদাগাড়ী থানায় যান ওসির সঙ্গে দেখা করতে। থানার ওসির চেম্বারে অপেক্ষারত কালাম ও তার স্ত্রীর অপেক্ষার ছবিটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়। বিষয়টি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও নজরে পড়ে।
রোববার রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল শিবসাগরের বাড়ি থেকে কালামকে আটক করেন। তবে বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত হলেও কালামকে সোমবার চব্বিশের ৫ আগষ্টে গোদাগাড়ীতে আন্দোলনরত ছাত্র জনতার ওপর হামলার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। যদিও তার পরিবার ও এলাকাবাসী বলছে জুলাই আন্দোলনের সময় কালাম ঢাকাতেই ছিলেন। নিজ এলাকায় ফিরেছেন আরও কিছুদিন পরে। মাদক কারবারী কালামকে জুলাই আন্দোলনের মামলায় গ্রেফতার দেখানো নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, জুলাই আন্দোলনে গোদাগাড়ীতে ছাত্র জনতার ওপর হামলার ঘটনা তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যে কালামের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। আটকের পর তাকে সেই মামলাতেই আদালতে চালান করা হয়েছে। কালামের বিরুদ্ধে থাকা মাদকের মামলাগুলোতে সে জামিনে রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, কালাম ছোটকালে সীমান্ত পথে ভারত থেকে মাথায় করে লবন চিনির পোটলা আনতেন। এসব লবন চিনি বিক্রি করে দিনে ১০০ টাকা লাভ করতেন। এভাবেই চলত তার পরিবার। ধীরে ধীরে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে সে। নব্বই দশকে টাকার বিনিময়ে হেরোইনের বাহক বা কামলা হিসেবে কাজ করতো। এক সময় নিজেই মাদকের কারবার শুরু করেন। এক দুইবার ধরা পড়ার পর ঢাকায় পালিয়ে গিয়ে মাদকের কারবারে জড়ায় পুরোমাত্রায়। ঢাকাতেও অন্তত মাদকসহ পাঁচবার গ্রেফতার হয়ে জেলে গেছেন। তবে কিছুদিন পর জামিনে ছাড়া পেয়ে আবার মাদকের কারবার শুরু করেছেন।
সাভার থানার একটি মামলাতে তার যাবজ্জ্বীবন কারাদণ্ড হয়। এক বছর পর জামিনে মুক্তি লাভ করে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, গ্রেফতারের আগে কালাম মাদকের কারবার চালাচ্ছিল পুলিশসহ প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে। গত নির্বাচনে কালাম বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। টাকা পয়সাও খরচ করেন।
তালিকাভুক্ত মাদক কারবারী হয়েও থানায় গিয়ে সাক্ষাত করার অভিযোগ অস্বীকার করে গোদাগাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, কালামকে তিনি আগে চিনতেন না। আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে তার জমিজমা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে বিরোধ চলছে বলে শুনেছি। চাচা ভাতিজাদের সঙ্গে মারামারির পালটা পালটি মামলাও আছে থানায়। এসব মামলার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে অথবা অভিযোগ দিতে থানায় এসেছিল কিনা- তা তিনি জানেন না। কারণ তার সঙ্গে কালামের মুখোমুখি সাক্ষাত ঘটেনি।
ডিবি পুলিশ আটকের পর কালামকে গোদাগাড়ী থানায় সোপর্দ করেন। জুলাই আন্দোলনে ছাত্র জনতার ওপর হামলার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
