ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন, হাঙ্গেরির জঙ্গলে প্রাণ গেল দাগনভূঞার বুলবুলের
দাগনভূঞা (ফেনী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
ফরিদুর রহমান বুলবুল। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পরিবারে সচ্ছলতা আনার প্রত্যাশায় ইউরোপ পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন চাপা পড়ে গেল ফেনীর দাগনভূঞার ফরিদুর রহমান বুলবুলের। দালালের খপ্পরে পড়ে ১৮ লাখ টাকা খুইয়ে হাঙ্গেরির একটি হাসপাতালে প্রাণ হারান তিনি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাগনভূঞা থানার ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান।
বুলবুল (৩২) উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের পূর্ব বারাহিগুনী এলাকার সফি ডাক্তার বাড়ির মৃত মফিজুর রহমানের ছেলে।
জানা গেছে, ফেনী শহরের বিরিঞ্চি এলাকার বাসিন্দা ও মধ্যস্থতাকারী (দালাল) মো. দুলালের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সরাসরি বিমানে ইতালিতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে দুলালের সঙ্গে ১৮ লাখ টাকায় চুক্তি করেন বুলবুল। বিভিন্ন সময়ে নগদ ও চেকের মাধ্যমে চুক্তির পুরো টাকা পরিশোধ করে তার পরিবার।
চুক্তি অনুযায়ী গত ১৬ জুন ইতালির উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন বুলবুল। তবে তাকে সরাসরি ইতালি না পাঠিয়ে প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই নেওয়া হয়। সেখান থেকে পূর্ব ইউরোপের সার্বিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়া হয়ে সড়কপথে হাঙ্গেরিতে নেওয়া হয় বুলবুলকে।
স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার সময় হাঙ্গেরির জঙ্গলে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন বুলবুল। পরে গুরুতর অবস্থায় সেখানকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরিবারে তার স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সি এক কন্যাসন্তান রয়েছে। বর্তমানে তার স্ত্রী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এর আগে দীর্ঘদিন সৌদি আরবের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করতেন বুলবুল। প্রায় এক বছর আগে দেশে ফিরে ইতালি যাওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি।
নিহতের ছোট ভাই কাজী নজরুল ইসলাম জানান, গত ২৪ জুন বুলবুলের সঙ্গে তাদের শেষ কথা হয়। তখন বুলবুল জানিয়েছিলেন, দালাল দুলাল তার দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন এবং সরাসরি বিমান যাত্রার বদলে ট্রেন ও বাসে করে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর ২৬ জুন থেকে ইমোতে রিং হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।
নজরুল যুগান্তরকে বলেন, আমরা দালাল দুলালের কাছে গিয়ে ভাইয়ের তথ্য চাইলে তিনি নানা টালবাহানা করেন। ভাইয়ের লাশ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং প্রতারক দালালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়—আমরা সরকারের কাছে সেই দাবি জানাচ্ছি।
সর্বশেষ রোববার সকালে হাঙ্গেরি পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে স্বজনদের ফোন করে তথ্য যাচাই করা হয়। পরে দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি দল বাড়িতে গিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার পর পরিবার জানতে পারে, বুলবুল আর বেঁচে নেই।
এ বিষয়ে দাগনভূঞা থানার ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান জানান, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ঠিকানা ও পরিচয় যাচাই করতে বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তা নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে নিহতের লাশ হাঙ্গেরির একটি হাসপাতালে রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি জানার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই পরিবারের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
