দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঢাকা নিয়ে যাওয়ায় সোহেলকে গলা কেটে হত্যা করেন সেলিম
Advertisement
ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঢাকা নিয়ে যাওয়ায় সোহেলকে গলা কেটে হত্যা করেন সেলিম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নে সোহেল সরকার (২৬) নামে এক যুবককে গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যার ঘটনায় মূলহোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঢাকা নিয়ে যাওয়ায় সোহেলকে গলা কেটে হত্যা করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা মো. সেলিম ওরফে নাপিত সেলিম।
শনিবার (২৫ জুলাই) দিনভর অভিযান চালিয়ে ভালুকাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হত্যায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
রোববার দুপুরে জেলা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া এলাকার আব্দুল রশিদের ছেলে মো. সেলিম ওরফে নাপিত সেলিম (৩২), মজিবর রহমানের ছেলে মো. সেলিম (৩০), মো. রমজান আলীর ছেলে মো. আব্দুল কাদির ওরফে আলামিন (২৫) ও আব্দুল জলিলের ছেলে লাল চাঁন ওরফে লালু (২৬)। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
ঘটনার বিবরণে পুলিশ জানায়, গত ১৬ জুলাই রাত ৮টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন সোহেল সরকার। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে সন্ধান না পেয়ে বুধবার (২২ জুলাই) সকালে নিহত যুবকের বাবা মো. নূরুল ইসলাম কোতোয়ালি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ওই দিন বিকালে লোকমারফত জানতে পারেন অম্বিকাগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের মাঠের পাশের বাগানে একজন ব্যক্তির গলাকাটা মাথা অর্ধগলিত অবস্থায় পড়ে আছে। সোহেলের পরিবারের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা গা-ঢাকা দেন।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবস্থান এবং পরিচয় শনাক্ত করে। পরে তদন্তের ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভালুকা উপজেলার আঙ্গারগারা গ্রাম থেকে জড়িত সন্দেহে মো. সেলিম মিয়াকে আটক করা হয়। ওই দিনই সেলিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সকাল ৯টার দিকে সদর উপজেলার সারবাজার এলাকা থেকে মো. সেলিম ওরফে নাপিত সেলিম, বেলা সাড়ে ১১টায় পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া এলাকা থেকে মো. আব্দুল কাদির ওরফে আলামিন এবং নগরীর মহারাজা রোড থেকে লাল চাঁন ওরফে লালুকে আটক করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারাল দা, কোদাল ও সোহেলের পরিধেয় রক্তমাখা পোশাক ও স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান অভিযুক্ত সেলিম পুলিশকে জানান, তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সোহেল সরকারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় ৩ মাস ধরে তারা ঢাকায় একসঙ্গে বসবাস করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। পরে কৌশলে সোহেলকে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে ডেকে এনে সহযোগীদের নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে মাথা ও দেহ আলাদা করে মাটিচাপা দেন।
