অভাবের ঘর থেকে সাফল্যের আলো—গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়া জাহিদের স্বপ্ন এখন ডাক্তার হওয়া
Advertisement
কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৫ এএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সংসারে অভাব-অনটন, বাবা রাজমিস্ত্রির সহকারী। সেই পরিবারের সন্তান জাহিদ হাসান এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন এ প্লাস অর্জন করে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। তার মোট নম্বর ১১৩১। ভালো ফলাফলের পর এখন তার স্বপ্ন—ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করা।
জাহিদ হাসান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার আড়াইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো. আলাউদ্দিনের তৃতীয় সন্তান। তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে জাহিদ ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী। সে কসবা পৌর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলে জাহিদের গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। এতে পরিবার, শিক্ষক ও প্রতিবেশীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়।
সরেজমিনে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আড়াইবাড়ি গ্রামে জাহিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনের ঘরের সামনে বাবা-মায়ের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে জাহিদ। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তার এমন সাফল্যে বাবা-মায়ের চোখেমুখে আনন্দের ছাপ।
জাহিদের বাবা মো. আলাউদ্দিন পেশায় একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী। দিনভর অন্যের নির্মাণকাজে শ্রম দিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়েই চলে চার সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসার। অভাবের সংসারে থেকেও ছেলের পড়াশোনা বন্ধ হতে দেননি তিনি।
জাহিদের মা লিমা আক্তার একজন গৃহিণী। ছেলের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তিনি। তিনি বলেন, সংসারে অনেক কষ্ট ছিল, কিন্তু ছেলের পড়াশোনার ব্যাপারে আমরা কখনো বাধা দেইনি। সে নিজের চেষ্টায় পড়াশোনা করেছে। আজ তার ফলাফলে আমরা অনেক খুশি।
কসবা পৌর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, জাহিদ মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সে নিয়মিত পড়াশোনা করেছে। তার এই ফলাফল আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য গর্বের।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জাহিদ হাসান বলে, আমি ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চাই। ভালোভাবে পড়াশোনা করে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই। আমার বাবা-মায়ের কষ্ট দূর করতে চাই।
জাহিদের এই সাফল্যে তার পরিবার যেমন আনন্দিত, তেমনি গর্বিত কসবা পৌর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। অভাবকে পেছনে ফেলে গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়া জাহিদের চোখে এখন বড় স্বপ্ন—ডাক্তার হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

