সিলেটে ট্রিপল মার্ডার ঘিরে রহস্যের জট, সিআইডির তদন্ত চায় পরিবার
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
সিলেটে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের সন্তানরা সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিলেটের বহুল আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘিরে রহস্যের জট দেখা দিয়েছে। প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তম শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতদের পরিবার। একই সঙ্গে পুলিশের তদন্ত সন্তোষজনক না হলে মামলাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তরের জোর দাবি জানান নিহত দম্পতির প্রবাসী সন্তানরা।
হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে রায়নগরের মিতালী ১১১ নম্বর বাসার দোতলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত দম্পতির ছেলে আমেরিকা প্রবাসী আরিফ ইফতেখার লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি তুলে ধরেন।
এ সময় তার তিন বোন তাহমিনা, সেলিনা ও তারানা উপস্থিত ছিলেন। মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত থাকায় পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের তেমন কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সন্তানরা। তবে সত্য কখনো চাপা থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
লিখিত বক্তব্যে আরিফ ইফতেখার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের বাবা-মা আর কোনোদিন ফিরে আসবেন না। ছোট্ট মেয়ে তাহমিনাও আর ফিরবে না। কিন্তু এই হত্যার সঠিক বিচার হলে আমরা মনে করতে পারব যে দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং কোনো অপরাধী প্রভাবশালী হওয়ার কারণে পার পেয়ে যেতে না পারেন তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আকুল আবেদন জানান তিনি। সেই সঙ্গে মানবিকতা ও সংবেদনশীলতার জায়গা থেকে নিহত আব্দুস সাত্তার, সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনার ছবি অনলাইন পোর্টাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করার বিনীত অনুরোধ জানান তারা।
উল্লেখ্য, সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর ‘নিকুঞ্জ ভিলা’য় প্রবীণ ব্যবসায়ী এম এ সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমকে (১৫) অজ্ঞাত ঘাতকরা খুন করে রক্তাক্ত লাশ ফেলে যায় গত ১২ আগস্ট।
ঘটনার দিন বিকালেই পুলিশ রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার বাবুল মিয়াকে (৪০) আটক করে দাবি করে যে, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে তিনজনকে ছুরি মেরে হত্যা করার কথা বাবুল স্বীকার করেছেন এবং তার দেওয়া তথ্যে রক্তমাখা ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের এই প্রেমের গল্প প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
নিহতের প্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেন, জমিসংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে ভাড়াটে খুনি দিয়ে এই নৃশংস হত্যাকণ্ড চালানো হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে আটক বাবুলকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে, যার মধ্যেই নিহতের পরিবার স্বচ্ছ তদন্ত ও সিআইডি হস্তান্তরের দাবি জানাল।
এ ব্যাপারে দায়ের করা মামলায় রঙমিস্ত্রি ও কসাই বাবুল মিয়ার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ট্রিপল মার্ডারের নেপথ্যের আসল রহস্য ও অন্যান্যদের সম্পৃক্ততা উম্মোচনের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।


