সিলেটে তিন মাসে ৫৭ কোটি টাকার চোরাই পণ্য জব্দ
Advertisement
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিশেষ অভিযানে গত তিন মাসে ৫৭ কোটি টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ করা হলেও আটকের সংখ্যা নগণ্য। বেশিরভাগ চোরাচালানই পরিত্যক্ত হিসেবে উদ্ধার হচ্ছে। চোরাচালান আটক-জব্দ হচ্ছে, পালিয়ে যাচ্ছে চোরাচালানীরা। ফলে চোরাচালান থামছে না।
বিজিবি সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) সদর দপ্তরে গত রোববার আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হক তিন মাসে ৫৭ কোটি টাকার চোরাচালান আটকের তথ্য দেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হক জানান, গত তিন মাসে সীমান্ত এলাকায় ৫৭ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ভারতীয় অবৈধ পণ্যের পাশপাশি ১০ হাজারের বেশি বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়। এছাড়াও ২ হাজার ২৬০টি গরু-মহিষ জব্দ করা সম্ভব হয়। তবে চোরাচালানে জড়িত আটকের সংখ্যা মাত্র ৮ জন। যার ফলে অধিকাংশ বড় চালানের মালামাল পরিত্যক্ত হিসেবেই নথিবদ্ধ হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে চোরাচালানের রুট পরিবর্তনের পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় অসাধু চক্র কর্তৃক কৃত্রিম মব সৃষ্টি করা বিজিবির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের এক ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে আমরা অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারী ট্রাক আটকালে একদল লোক মব সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আক্রমণ করে ট্রাক ছিনিয়ে নেয়। তারা সিলেট-তামাবিল সড়ক আটকে সমস্যা সৃষ্টি করে। এই মব ঠেকানোটাই একটি বড় কনসার্ন। তারা মব সৃষ্টি করে অবৈধ জিনিসকে বৈধ করতে চায় এবং তাদের মবের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আক্রমণের শিকার হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষও দুর্ভোগে পড়েন।
এছাড়াও বিশেষ আভিযানিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত শনি ও রোববার সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট এবং জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে বড় ধরনের অভিযান চালায় ৪৮ বিজিবির অধীনস্থ বিওপিগুলো।
বিজিবির অভিযানে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা, চা পাতা, ফুচকা, শাড়ি, কম্বল, মদ ও নানা পদের কসমেটিক্স সামগ্রী জব্দ করে। যার আনুমানিক সিজার মূল্য প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে বরাবরের মতোই বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় এসব পণ্য পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। দুই দিনের এই অভিযানে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করে লে. কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান এবং মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


