রাজশাহী নগরীর ৩২ শতাংশ বাড়িতে মিলেছে এডিসের লার্ভা
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
রাজশাহী মহানগরীর কিছু এলাকায় এডিস মশার প্রজনন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বর্ষাকাল এলেই রাজশাহীতে প্রতিবছর বাড়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি। একই সঙ্গে বেড়ে যায় এডিস মশার বংশবৃদ্ধি। রাজশাহী মহানগরীর কিছু এলাকায় এডিস মশার প্রজনন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যাও বেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে গত ৩ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর পাঁচটি এলাকায় কীটতাত্ত্বিক জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে ৭৫টি বাড়ির মধ্যে ২৪টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। বাড়ির সূচক দাঁড়িয়েছে ৩২ শতাংশ। এ ছাড়া পরীক্ষা করা ৬৮টি পানি ধারণকারী পাত্রের মধ্যে ৪৬টিতে মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। পাত্রের সূচক দাঁড়িয়েছে ৬৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
ব্রেটো সূচক একটি পরিমাপ পদ্ধতি, যার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি ও ঘনত্ব নির্ণয় করা হয়। সাধারণত ১০০টি বাড়ি বা পাত্র পরীক্ষা করে যতগুলো বাড়ি বা পাত্রে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়, তার সংখ্যা হিসাব করে এই সূচক বের করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুসারে, ব্রেটো সূচক ২০-এর বেশি হলে ওই এলাকায় ডেঙ্গু সংক্রমণের উচ্চঝুঁকি থাকে এবং মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এডিস মশার আক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ স্ত্রী মশার কামড়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ায়।
রাজশাহী মহানগরীর কাজিহাটা, চণ্ডীপুর, উপরভদ্রা, নামোভদ্রা এবং হাজরাপুকুর এলাকায় এ জরিপ চালানো হয়। এসব এলাকায় ব্রেটো সূচকের মান ছিল ৬১ দশমিক ৩৩ শতাংশ, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী ডেঙ্গুর ঝুঁকি নির্দেশক মাত্রার তিন গুণেরও বেশি। ব্রেটো সূচক পরিদর্শন করা প্রতি ১০০টি বাড়ির মধ্যে মশা প্রজননের উপযোগী পাত্রের সংখ্যা পরিমাপ করে।
জরিপে মশার প্রজননস্থল থেকে ৬৮৫টি মশার লার্ভা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০৫টি ছিল এডিস অ্যালবোপিকটাস, ৮৬টি এডিস ইজিপ্টি এবং ৯৪টি অন্য প্রজাতির মশা। প্রজননের উৎসগুলোর মধ্যে ছিল ফুলদানি, প্লাস্টিক ও সিরামিকের টব, মাটি ও টিনের পাত্র, নারকেলের খোসা, সিমেন্টের টব, ড্রাম, জলমগ্ন মেঝে, রঙের বালতি এবং প্লাস্টিকের বালতি।
এর আগে গত মে মাসে জরিপ করা হয়। ওই জরিপে দেখা যায়, ৭৫টি বাড়ির মধ্যে ১৫টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। বাড়ির সূচক দাঁড়িয়েছিল ২০ শতাংশ। পরীক্ষা করা ৫২টি পানি রাখার পাত্রের মধ্যে ২৩টিতেই লার্ভা পাওয়া গেছে। পাত্রের সূচক দাঁড়িয়েছিল ৪৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। ওই সময় ব্রেটো সূচক ছিল ৩০ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যা ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকির জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমা ২০-এর চেয়ে ইতোমধ্যেই বেশি। সর্বশেষ ব্রেটো সূচক ৬১ দশমিক ৩৩, যা মে মাসের পরিসংখ্যানের প্রায় দ্বিগুণ। একই সঙ্গে বাড়ি ও কন্টেইনার সূচক উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১৩ জুন একজন ছিল। ৩০ জুলাই তা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়ায়। আগস্ট মাসে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ৬ আগস্ট রোগী ভর্তি ছিল ১৩ জন, ৮ আগস্ট ২৩ জন, ৯ আগস্ট ২৬ জন এবং ১০ আগস্ট ৩০ জন। ১১ আগস্ট হাসপাতালে একজন ডেঙ্গু রোগী মারা যান।
১৪ আগস্ট আটজন নতুন রোগী ভর্তি হন এবং ছয়জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া শনিবার (১৫ আগস্ট) নয়জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) হাসপাতালে সাতজন রোগী ভর্তি ছিলেন। সুস্থ হয়েছেন আরও ১৩ জন। বর্তমানে ২৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার বলেন, ডেঙ্গু পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে আমরা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছি। প্রতি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।
