শিশু ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় ৩০ দিনের মধ্যে রায়
Advertisement
নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুরে পাঁচ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে প্রতিবেশী রবিউল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার ৩০ দিন এবং অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ৯ কর্মদিবসের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে এ রায় দেওয়া হয়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি তারিকুজ্জামান লিটু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নড়াইলের ইতিহাসে এত দ্রুত কোনো মামলার রায়—এটাই প্রথম।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, গত ২০ জুলাই বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুটি তার বাবার সঙ্গে স্থানীয় বাজার থেকে বাড়িতে আসে। এ সময় শিশুটির মা ঘরে নুডলস রান্না করছিলেন এবং বাবা ঘরেই বসেছিলেন। কিছুক্ষণ পর শিশুটি ঘর থেকে বের হয়ে যায়। ৩ থেকে ৪ মিনিট পর তাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি।
একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে শিশুটির বাবা প্রতিবেশী রবিউলের বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ডাকাডাকি করেন। এ সময় রবিউল নিজ ঘরের দরজা খুলে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে শিশুটির বাবা ঘরের ভেতরে ঢুকে খাটের ওপর চাদর দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় রক্তাক্ত ও অচেতন শিশুটিকে দেখতে পান।
পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন সকালে স্থানীয়রা রবিউলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। ওইদিনই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে রবিউলের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন।
পরে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন রবিউল।
ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে। ৬ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এরপর ৯ আগস্ট অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় বাদীসহ মোট ২৮ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
