|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সার কারসাজির অভিযোগে রাজশাহীর দুর্গাপুরে এক ডিলারের দোকানের সামনে বিক্ষোভ করেছেন এলাকার কৃষকরা। সার পেতে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সোমবার দুপুরে জেলার দুর্গাপুর উপজেলার কাশিপুরে বিসিআইসি ও বিএডিসির ডিলার মেসার্স লাল মোহাম্মদ সরদারের গুদামের সামনে এ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পাহারায় সার বিক্রি করা হয়।
বিক্ষোভকারী কৃষকরা অভিযোগে বলেন, সার ডিলার মেসার্স লাল মোহাম্মদ সরদার কিছুদিন ধরেই সার তুলে কৃষকদের কাছে বিক্রি না করে কালোবাজারে বিক্রি করে আসছেন। আমরা সার কিনতে গেলে সার নেই বলে ফিরিয়ে দেন। অনেক কৃষক সাত দিন আট দিন ঘুরেও এই ডিলারের কাছ থেকে সার কিনতে পারেননি। আবার কেউ বেশি টাকা দিলে সার দিচ্ছে। দুই দিন আগে বাফার গুদাম থেকে সার তুলে মজুত করেন মেসার্স লাল মোহাম্মদ।
খবর পেয়ে সোমবার সকাল থেকেই কৃষকরা সার কিনতে দোকানের সামনে ভিড় করেন; কিন্তু সার নেই বলে জানান ডিলারের কর্মচারীরা। এরই মধ্যে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ১০ বস্তা সার নিয়ে যেতে দেখলে কৃষকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। শুরু করেন বিক্ষোভ।
এ সময় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা গুদামে ঢোকার চেষ্টা করলে কর্মচারীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে দোকান বন্ধ করে গা-ঢাকা দেন কর্মচারীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে পুলিশ পাহারায় সার বিক্রি করা হয় কৃষকদের কাছে।
সার কিনতে আসা কৃষক হাছেন আলী বলেন, এখানে বেশি দামে সার বিক্রি করা হয়। আবার ইচ্ছামতো ব্যক্তিদের সার দেওয়া হয়। আমরা সাধারণ কৃষক সার কিনতে গেলে বলে সার নাই। আবার যে বেশি টাকা দিতে পারে তাকে সার দেওয়া হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে আমরা সার কিনতে পারিনি।
মেসার্স লাল মোহাম্মদ সরদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সার বিক্রিতে কোনো কারসাজি করা হয় না। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে যে পরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সুষ্ঠুভাবে বিক্রি করা হয়। তবে চাহিদামতো সার না থাকলে আমরা বিক্রি করতে পারি না।
দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, সার বিক্রিতে বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে আমরা ওই ডিলারের পয়েন্ট পরিদর্শন করেছি। আমাদের অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক সার বিক্রির কার্যক্রম মনিটরিং করছেন।
