রিয়ালের বান্ডিল খুলতেই বেরিয়ে এলো পুরোনো খবরের কাগজ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সৌদি রিয়ালের বান্ডিল। বাইরে থেকে দেখে মনে হবে আসল; কিন্তু বান্ডিল খুলতেই বেরিয়ে এলো পুরোনো খবরের কাগজ। প্রতারণার ফাঁদকে বিশ্বাসযোগ্য করতে প্রতিটি বান্ডিলের মধ্যে রাখা হয়েছিল মাত্র ৫০ রিয়ালের তিনটি আসল নোট।
এক লাখ টাকার বিনিময়ে ১৪ বান্ডিল সৌদি রিয়াল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার সময় মানিকগঞ্জে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় চক্রের আরও এক সদস্য পালিয়ে গেছে।
সোমবার মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন রাজ রেস্টুরেন্টের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার পুলিশে দেওয়া প্রেস রিলিজে বিষয়টি জানাজানি হয়।
আটকরা হলেন- গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মুচনা ইউনিয়নের পাইকদিয়া গ্রামের এনামুল শেখ (৪০) ও আলম শেখ ওরফে আলেম (৫০)। পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তির নাম জাহাঙ্গীর শেখ।
সদর থানার ওসি মো. মনির হোসেন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গড়পাড়া ইউনিয়নের ঠাটাংগা শাহে জামে মসজিদের ইমাম মো. ইসমাইল হোসাইন শামীমের সঙ্গে শনিবার হকারের ছদ্মবেশে পরিচিত হন জাহাঙ্গীর শেখ। বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও মশারি বিক্রির কথা বলে তিনি ইমামের সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে নিজের কাছে বিপুল পরিমাণ সৌদি রিয়াল রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ব্যাংকের মাধ্যমে এসব রিয়াল ভাঙিয়ে দিতে সহযোগিতা চান। এ সময় ইমামের মোবাইল নম্বর নিয়ে চলে যান জাহাঙ্গীর।
শনিবার রাতে জাহাঙ্গীর ফোন করে ইমামের সঙ্গে অপর এক ব্যক্তির কথা বলিয়ে দেন। ওই ব্যক্তি নিজেকে অশিক্ষিত পরিচয় দিয়ে তার কাছে ১৪ বান্ডিল সৌদি রিয়াল রয়েছে বলে জানান। ব্যাংকের মাধ্যমে রিয়াল ভাঙিয়ে দেওয়ার জন্য ইমামের সহযোগিতা চান তিনি।
পরদিন সকালে তাদের কথামতো ইমাম ইসমাইল হোসাইন শামীম মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন রাজ রেস্টুরেন্টের সামনে যান। সেখানে জাহাঙ্গীরসহ তিনজনের সঙ্গে তার দেখা হয়। তাদের একজনের হাতে থাকা বাজারের ব্যাগে ১৪ বান্ডিল সৌদি রিয়াল রয়েছে বলে জানানো হয়।
ব্যাংকের মাধ্যমে রিয়াল ভাঙাতে সময় লাগবে জানিয়ে প্রতারকরা নগদ এক লাখ টাকার বিনিময়ে রিয়ালগুলো বিক্রির প্রস্তাব দেয়। এতে অল্প সময়ে বিপুল লাভ হবে বলেও ইমামকে প্রলোভন দেখানো হয়।
প্রতারকদের কথায় সন্দেহ না থাকলেও বান্ডিলগুলো পরীক্ষা করতে গিয়ে বিষয়টি আঁচ করতে পারেন ইমাম। টাকা নিয়ে পুনরায় ঘটনাস্থলে গিয়ে বান্ডিলগুলো পরীক্ষা করার সময় তার সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরে বান্ডিল খুলে দেখা যায়, অধিকাংশই পুরোনো খবরের কাগজ বিশেষ কৌশলে কেটে ও ভাঁজ করে তৈরি করা। প্রতারণার বিষয়টি যেন সহজে ধরা না পড়ে, সেজন্য বান্ডিলের মধ্যে রাখা হয়েছিল ৫০ রিয়ালের মাত্র তিনটি আসল নোট।
এ নিয়ে ইমামের সঙ্গে প্রতারকদের বাগবিতণ্ডা শুরু হলে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। তারা তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এনামুল শেখ ও আলম শেখকে আটক করে। এ সময় সুযোগ বুঝে জাহাঙ্গীর শেখ পালিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, এনামুল শেখের কাছ থেকে একটি বাজারের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ব্যাগের ভেতরে গামছায় মোড়ানো খবরের কাগজের তৈরি বান্ডিল ও ৫০ রিয়ালের তিনটি সৌদি নোট পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ইমাম মো. ইসমাইল হোসাইন শামীমের অভিযোগের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা হয়েছে।
সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জুলুস খান পাঠান জানান, পলাতক জাহাঙ্গীর শেখসহ প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
