দিনাজপুরে ১৫৭৭ বস্তা সার জব্দ
Advertisement
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দিনাজপুরের খানসামায় অনুমোদিত সীমার বাইরে মজুত ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে দুই দিনে ১ হাজার ৫৭৭ বস্তা সার জব্দ করেছে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। অভিযানে সংশ্লিষ্টদের মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা ও একটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। একই সঙ্গে একজন সার ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) খানসামা উপজেলার পাকেরহাট এলাকায় বিএডিসি সার ডিলার মহিতোষ চন্দ্র চন্দের ‘মেসার্স মহাদেব ট্রেডার্সের’ গুদামে অভিযান চালিয়ে ৪৫০ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
জব্দ করা সারের মধ্যে ৩৫০ বস্তা এমওপি ও ১০০ বস্তা ডিএপি রয়েছে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে গুদামটি সিলগালা করা হয়।
একই দিনে (শুক্রবার) খানসামা উপজেলার টংগুয়া বাজারে বিসিআইসির সার ডিলার ‘মেসার্স আসাদুজ্জামান ট্রেডার্সে’ অভিযান চালিয়ে ২০৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৯৪ বস্তা ডিএপি, ৫৫ বস্তা ইউরিয়া ও ৫৮ বস্তা এমওপি। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খানসামা উপজেলার পাকেরহাট এলাকায় বিসিআইসির সার ডিলার মোজাহারুল ইসলামের মালিকানাধীন ‘মেসার্স রনি ট্রেডার্সের’ গুদামে অভিযান চালিয়ে ৯২০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। জব্দকৃত সারের মধ্যে ৬৬০ বস্তা ডিএপি এবং ২৬০ বস্তা এমওপি।
অভিযানকালে সার ডিলার মোজাহারুল ইসলাম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামান সরকার, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদনান কবির উদয় এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ার হোসেন।
এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অয়ন ফারহান শামস, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরকার বলেন, জব্দকৃত সার রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে। বিক্রিলব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে ও সঠিক সময়ে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ডিলারদের গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কোনো ডিলার বা ব্যবসায়ী অনুমোদিত সীমার বাইরে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে কিংবা কৃষকদের হয়রানি করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার জানান, সার মজুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে ডিলারদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও নির্দেশনা অমান্য করে অননুমোদিতভাবে সার মজুত রাখার অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
