দিনাজপুরে বাবা-মা-ছেলের অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত, উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা
Advertisement
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের কয়েকটি অঞ্চলে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হওয়ার পর দিনাজপুরেও তিনজনের শরীরে রোগটি শনাক্ত হয়েছে। তবে আক্রান্ত তিনজনই অন্য জেলার বাসিন্দা। আক্রান্তরা সম্পর্কে বাবা, মা ও ছেলে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রোগটির বিস্তার ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি জানান, জেলার পার্বতীপুর উপজেলার খোলাহাটি ক্যান্টনমেন্টের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তিনজনের শরীরে কিউটেনিয়াস অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। তারা রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বাসিন্দা। আক্রান্তরা হলেন- সুমন মিয়া (২৯), তার বাবা আব্দুল মান্নান ও মা স্বপ্না বেগম। চিকিৎসা শেষে তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
সিভিল সার্জন জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর হাত ও আঙুলে ক্ষত নিয়ে তিনজন হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন চিকিৎসকরা কিউটেনিয়াস অ্যানথ্রাক্সের সম্ভাবনা উল্লেখ করেন। পরে বিষয়টি সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) নজরে আনা হয়। ৫ সেপ্টেম্বর আইইডিসিআরের ছয় সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের তথ্য সংগ্রহ ও নমুনা নেয়। পরীক্ষায় তিনজনের নমুনাতেই অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়।
প্রায় ১৬ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনজনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
সিভিল সার্জন বলেন, এই রোগ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। কারণ এই রোগ চিকিৎসা করলেই ভালো হয়ে যায়।
এদিকে দিনাজপুরসহ কয়েকটি জেলায় অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হওয়ার খবরে খামারি ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর আগে লাম্পি ও খুরা রোগে খামারি ও কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাবের খবরে গবাদিপশু ও মানুষের মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম জানান, অন্য জেলার বাসিন্দা হলেও তিনজন পার্বতীপুরে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে তারা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তাদের বাড়ি পার্শ্ববর্তী রংপুর জেলায়। দিনাজপুরে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত কোনো গবাদিপশু বা রোগী নেই বলেও জানান তিনি।
