চারদিকে পানি, ঘরে সাপ ঢোকার আতঙ্কে চরবাসী
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
উজানের ঢল ও অবিরাম বৃষ্টির কারণে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে পদ্মা নদীর পানি। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি আরও ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে চারদিকে পানি থাকায় ঘরে সাপ ঢুকে পড়ার আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার প্রায় ৪০ গ্রামের মানুষ চরম পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে বহু ঘরবাড়ি, গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। অনেক পরিবারের ঘরের চারপাশে পানি জমে যাওয়ায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে দৌলতপুরের নিম্নাঞ্চলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ফসল, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পানিবন্দি মানুষের খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ভোগ। চারদিকে পানি থাকায় ঘরে সাপ ঢুকে পড়ার আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
পানি ঢুকে পড়ায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পানিবন্দি এলাকার শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে দৌলতপুরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৭০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহানা পারভীন বলেন, পানিতে নিমজ্জিত ফসলি জমির পরিমাণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ৪৭০ হেক্টর জমি পানির নিচে রয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, দুই ইউনিয়নের প্রায় ৪০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিতে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। গত বুধবার সাড়ে ৩৫০ পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে ত্রাণের বরাদ্দও পাওয়া গেছে, শিগগিরই তা বিতরণ করা হবে।
