চালক হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই ‘সিরিয়াল কিলার’ মানিকের পেশা
Advertisement
কুমিল্লা ব্যুরো
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
এ ঘটনায় মানিক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লায় চালকদের হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই ছিল ‘সিরিয়াল কিলার’ আব্দুল ওয়াদুদ মানিকের পেশা। এরই মধ্যে নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি মানিককে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান।
গ্রেফতার মানিক (২৫) মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের গনিপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম ওরফে দুলালের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ১২ আগস্ট নাঙ্গলকোট থানার আটিয়াবাড়ি এলাকায় একটি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশের পরিচয় শনাক্ত করে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি ১৮ বছর বয়সি মো. মেহেদী। তিনি অটোরিকশাচালক ছিলেন।
এ ঘটনায় নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা তদন্তে নামে। এসআই তৌকিক হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আব্দুল ওয়াদুদ মানিক, শাহেদ, ফাহিম ও সেলিমকে গ্রেফতার করা করে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা মেহেদীকে হত্যা ও তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় মানিক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এরপর গত ২৪ জুলাই নাঙ্গলকোটে অটোরিকশাচালক মো. আরমান হোসেন (১৫) নিখোঁজ হন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে একটি অটোরিকশা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মো. জোবায়ের হোসেন সুজন, নূর আলম ও মো. গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা আরমানকে অপহরণ করে হত্যার তথ্য দেন। পরে মানিককে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনিও আরমানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিনয়ঘর এলাকার একটি পুকুর থেকে আরমানের লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, দুটি হত্যাকাণ্ডের পেছনেই অটোরিকশা ছিনতাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
পুলিশ আরও জানায়, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে শাহজাহান ওরফে সাইমন (১৭) নামে এক কিশোরকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মানিক। ওই হত্যা মামলাটিও বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

-6aa8f04f22c7d.jpg)