কেশবপুর প্রেস ক্লাব দখলে ‘মব’, হামলায় আহত ৫
যশোর ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বহিরাগতদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যশোরের কেশবপুর প্রেস ক্লাব দখলের অভিযোগ উঠেছে। রোববার দুপুরে বিএনপি নেতা ও স্থানীয় সাংবাদিক ওয়াজেদ খান ডাবলুর নেতৃত্বে ৮-১০ জন এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হামলায় আহতরা হলেন- স্থানীয় দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার প্রতিনিধি জয়দেব চক্রবর্তী, দৈনিক কল্যাণের আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ ও সময়ের খবরের জাহিদ হাসানসহ কয়েকজন সাংবাদিক।
আহতদের দাবি, হামলাকারীরা কেউ ওই প্রেস ক্লাবের সদস্য নয়। হামলার পর অভিযুক্তরা প্রেস ক্লাব দখল করে নিজেদের মতো করে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট একটি স্বঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে।
অভিযুক্তদের দাবি, প্রেস ক্লাবটি দীর্ঘদিন অপেশাদার ও ফ্যাসিস্টদের দখলে ছিল। প্রকৃত সাংবাদিকরা ক্লাবে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এতে তাদের পাঁচ সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেশবপুরে সাংবাদিকদের একাধিক সংগঠন থাকলেও কেশবপুর প্রেস ক্লাব মূলত পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর কেশবপুর প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ক্লাবটির ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি চলছিল।
এমন পরিস্থিতিতে রোববার দুপুরে কেশবপুর উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও সাংবাদিক ওয়াজেদ খান ডাবলু, মাহবুবুর রহমান, আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে প্রেস ক্লাবে আচমকা ঢুকে তারা ভাঙচুর করে প্রেস ক্লাব দখল করেন। তারা প্রেস ক্লাবে ঢুকেই অন্য সদস্যদের বের করে দেন।
এ সময় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক লোকসমাজের প্রতিনিধি জয়দেব চক্রবর্তী, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ ও প্রেস ক্লাবের সদস্য জাহিদুর রহমানকে ব্যাপক মারপিট করা হয়। প্রেস ক্লাব দখল প্রক্রিয়ার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে প্রথম আলোর কেশবপুর প্রতিনিধি দিলীপ মোদককেও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী সঙ্ঘবদ্ধ বিশৃঙ্খলা চালিয়ে পুরো প্রেস ক্লাব দখল করে নেয়।
এ সময় প্রেস ক্লাব এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করে। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
হামলার পর অভিযুক্ত চক্রটি মূল প্রেস ক্লাব দখল করে নিজেদের মতো করে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট একটি স্বঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে। ওই কমিটিতে দৈনিক দিনকাল প্রতিনিধি মাহাবুর রহমানকে আহ্বায়ক, হারুন আর রশিদকে সদস্য সচিব এবং ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুকে সদস্য করা হয়েছে। এরপর প্রেস ক্লাব দখলের পর থেকে মূলধারার গণমাধ্যম কর্মীরা আর প্রেস ক্লাবে ঢুকতে পারছেন না। দখলকারীরা প্রেস ক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
আহত সাংবাদিক জাহিদ হাসান বলেন, হঠাৎ বহিরাগতরা এসে আমাদের ওপর হামলা ও মারধর করে। হামলায় জয়দেব চক্রবর্তী ও আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ গুরুতর আহত হলে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
কেশবপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আশরাফুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বহিরাগতরা এসে মব তৈরি করে জোরপূর্বক প্রেস ক্লাব দখলের চেষ্টা চালায় এবং আমাদের ক্লাবের ভেতর আটকে রাখে। প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ জানান, এ ঘটনায় তারা থানায় অভিযোগ করবেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাংবাদিক ও বিএনপি নেতা ওয়াজেদ খান ডাবলু সাংবাদিকদের বলেন, যারা অভিযোগ করছে, তারা কেউ সাংবাদিক না। চাঁদাবাজ ও ফ্যাসিস্টের দোসর। সাংবাদিকদের প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকরা গিয়েছে। তাদের ওপর কেউ হামলা করেনি। বরং ওরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে পাঁচ সাংবাদিককে আহত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে কেশবপুর থানার ওসি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, ওখানে সাংবাদিকদের মধ্যে একটা বিরোধ চলছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। আমরা বলেছি আপনারা থানায় আসেন। আমরা দুইপক্ষের সঙ্গে বসে আলোচনা করব।
তিনি জানান, হামলার বিষয়ে কিছু জানি না। এমন ঘটনা ঘটলে কেউ অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব। কেউ এখনো থানায় অভিযোগ দিতে আসেনি।
