চকরিয়ায় শিক্ষার্থীকে অপহরণ, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
Advertisement
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কক্সবাজারের চকরিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির কিশোরী শিক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর ধারায় তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পৃথকভাবে ৩৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তা অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। সত্যতা নিশ্চিত করেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সলিমুল মোস্তফা।
দণ্ডপ্রাপ্ত সুমন বৈষ্ণব (৩৫) কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তরছঘাটার তুলসী বৈষ্ণবের ছেলে।
মামলায় প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত অপর তিন সহযোগী বিজয় দাশ, কৃষ্ণপদ দাশ ও পিঠন বৈষ্ণবকে চার্জশিট থেকেই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। তাই তাদের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেননি আদালত।
পিপি সলিমুল মোস্তফা মামলার এজাহারের বরাতে বলেন, ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই বিকাল ৩টার দিকে চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের উত্তর পাশে সড়ক থেকে ভাই ও মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরার সময় একই ধর্মের ভিন্ন গোত্রের কিশোরী শিক্ষার্থীকে অস্ত্র ঠেকিয়ে অপহরণ করেন প্রধান অভিযুক্ত সুমন বৈষ্ণব। তাকে সহযোগিতা করেন মামলার এজাহারে থাকা অপর তিনজন।
ভিকটিমের মা বাধা দিতে চাইলে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে তার কপালে আঘাত লাগে। পরে সেখান থেকে মহাসড়কে তুলে এস আলম বাস কাউন্টারের পাশে একটি মাইক্রোবাসে করে ওই কিশোরী শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, আসামি সুমন দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাওয়ার পথে ভিকটিমকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। ঘটনার দিন প্রাইভেট শেষ করে ভিকটিম তার ভাই প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী এবং বাদিনীর সঙ্গে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথেই এ অপহরণের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় চকরিয়া থানায় মামলা করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা দেবব্রত রায় একই বছরের ১১ অক্টোবর অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে মামলার ২, ৩ ও ৪ নম্বর আসামিকে বাদ দিয়ে সুমন বৈষ্ণবকে প্রধান অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট উপস্থাপন করা হয়।
আদালতে বিচার চলাকালে বাদী ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য-প্রমাণে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় বিচারক রবিউল আলম আসামি সুমন বৈষ্ণবকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ৭ ধারায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
রায়ে রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতারে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মফিজুর রহমান হেলাল ও অ্যাডভোকেট প্রতিভা দাশ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

-6ab359cfaf771.jpg)