ওসি আবজালের ব্যতিক্রমী বিদায়
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবজাল হোসাইনের বিদায়
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কোনো কর্মকর্তার বিদায় অনুষ্ঠান মানেই দামি উপঢৌকন, স্যুট-টাই, ফুলের তোড়া কিংবা নানান বাহারি উপহার; কিন্তু হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবজাল হোসাইনের বিদায়টা ছিল একেবারেই অন্যরকম।
চরাঞ্চলবেষ্টিত উপজেলার সাধারণ মানুষ দামি উপহার নিয়ে আসেননি। সঙ্গে এনেছেন নিজেদের আবাদ করা লাউ, কলা, জাম্বুরা, শাকসবজি আর হাঁস-মুরগির ডিম। ঘরের উঠান, ক্ষেত আর খামার থেকে যতটুকু সম্ভব, ততটুকুই ভালোবাসা নিয়ে হাজির হয়েছেন তারা।
সেই ভালোবাসাতেই বুধবার দুপুরে হরিরামপুর থানায় হয়ে গেল ব্যতিক্রমী এক বিদায় আয়োজন।
ফুলের পাশাপাশি কৃষকের ঘরের এসব সাধারণ উপহারই যেন অসাধারণ হয়ে উঠেছিল বিদায়ী ওসির কাছে।
স্থানীয়দের ভাষায়, এসব উপহারের দাম দিয়ে ভালোবাসার মূল্য মাপা যায় না। একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে মানুষের যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, বিদায়ের দিনে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এসব উপহারে।
বিদায় অনুষ্ঠানে পুলিশের সহকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বিদায়ী ওসির হাতে তুলে দেন লাউ, কলা, জাম্বুরা, শাকসবজি, হাঁস-মুরগির ডিমসহ বাড়িতে উৎপাদিত নানা কৃষিপণ্য।
২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর হরিরামপুর থানায় ওসি হিসেবে যোগ দেন মোহাম্মদ আবজাল হোসাইন। নয় মাসের বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে বুধবার তিনি হরিরামপুর থেকে বিদায় নেন।
দায়িত্ব পালনকালে মাদকবিরোধী অভিযান, ইভটিজিং প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনা এবং মামলা সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও তারা উল্লেখ করেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, থানায় সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে আবজাল হোসাইনের আচরণ ছিল সহযোগিতাপূর্ণ। অভিযোগ নিয়ে আসা মানুষকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও তারা ইতিবাচকভাবে দেখেছেন।
বিদায়ী বক্তব্যে মোহাম্মদ আবজাল হোসাইন হরিরামপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয় মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতা ও ভালোবাসার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, হরিরামপুরে দায়িত্ব পালনকালে মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতা ও ভালোবাসা তার কর্মজীবনের স্মৃতিতে থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
