মদ না দেওয়ায় পেট্রল ঢেলে আগুন, ৫ দিন পর দগ্ধ কর্মচারীর মৃত্যু
Advertisement
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৩ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নরসিংদীতে বিনামূল্যে দেশীয় মদ না দেওয়ায় লাইসেন্সধারী মদের দোকানের কর্মচারী তানভীর আহমেদ রাব্বির (৩০) শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দগ্ধ রাব্বি পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাব্বির বাবা মনির হোসেন ও নরসিংদী সদর মডেল থানার ওসি এআরএম আল মামুন।
রাব্বির মৃত্যুর খবরে তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানায় নরসিংদী সদর মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নরসিংদী সদর মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ দল অভিযান চালিয়ে শহরের বানিয়াছল বালুরমাঠ এলাকা থেকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত আবাসিক হোটেল নিরালার মালিক জাহাঙ্গীর সরকারকে (৬০) গ্রেফতার করে। পরে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কাজী তৌফিক আহমেদ ওরফে পিয়াস (৩০) নামে অপর এক আসামিকে গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। অপর আসামি জাহাঙ্গীর সরকারের ছেলে জাহিদ সরকার পলাতক রয়েছেন।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ওসি এআরএম আল মামুন বলেন, তানভীর আহমেদ রাব্বি আজ বিকাল ৫টার দিকে মারা গেছেন। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নরসিংদী শহরের বাজির মোড় এলাকায় একটি লাইসেন্সধারী দেশীয় মদের দোকানে বিনামূল্যে ১০ লিটার মদ দাবি করেন আবাসিক হোটেল নিরালার মালিক জাহাঙ্গীর সরকারের ছেলে জাহিদ সরকারসহ কয়েকজন।
মদ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা দোকানের কাউন্টারে থাকা কর্মচারী তানভীর আহমেদ রাব্বির শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তাকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার বিকালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাব্বির মা মিনু বেগম বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় জাহাঙ্গীর সরকার ও তার ছেলে জাহিদ সরকারের নাম উল্লেখ করে আরও দুই-তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
