দুই শিশুসন্তানের সামনে নারীকে ধর্ষণ, বিচার না পেয়ে আত্মহত্যাচেষ্টা
Advertisement
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজীপুরের শ্রীপুরে আশ্রয় ও আর্থিক সহযোগিতার প্রলোভন দেখিয়ে দুই শিশুসন্তানের সামনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ওই নারী বিচার না পেয়ে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
মাওনা চৌরাস্তা উড়ালসড়কের নিচে আশ্রয় নেওয়া ওই নারীকে সোহরাব নামে স্থানীয় এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই নারীসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শ্রীপুর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে ওই নারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে একজনকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে আটক অপর দুজনকে ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, মামলার আসামি মো. সোহরাব ওই এলাকায় ছোট একটি পানের দোকান চালাতেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক। তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। অভিযানের স্বার্থে তার বিস্তারিত ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি।
ওসি আরও জানান, স্থানীয় লোকজন অপর দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী ২৫ বছরের ওই নারী শ্রীপুর উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দুই সন্তানের জননী এবং ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, কয়েক বছর আগে তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান। নিজের বাড়িতেও তাকে আশ্রয় দেওয়ার মতো কেউ নেই। অসহায় অবস্থায় তিনি শ্রীপুরের জৈনাবাজার এলাকায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে দুই সন্তানসহ বসবাস করছিলেন। কয়েক মাসের ভাড়া বকেয়া থাকায় মঙ্গলবার বাড়ির মালিক তাকে ঘর থেকে বের করে দেন। এরপর তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় উড়ালসড়কের নিচে আশ্রয় নেন।
একপর্যায়ে সোহরাব নামে ওই পান ব্যবসায়ী তার কাছে গিয়ে সমস্যার কথা জানতে চান। পরে আশ্রয় ও টাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে মাওনা চৌরাস্তার পূর্বপাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
ঘটনার পর তিনি স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে বিষয়টি জানিয়ে বিচার দাবি করেন। তবে তারা বিচার না করে তাকে ৫শ টাকা দিয়ে বিদায় করে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ তার। পরে আরও কয়েকজনের কাছে বিচার চেয়েও সাড়া না পেয়ে তিনি মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে পানের আড়ত এলাকায় নিয়ে যান।
এ সময় ওই নারী তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিচার দাবি করতে থাকেন।
ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় একজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাস্থল থেকে আটক দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
