বিয়ের আসরে অসুস্থ ১৪ বছরের কনে, হাসপাতালে নিলেন ইউএনও
Advertisement
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় গোপনে আয়োজিত একটি বাল্যবিবাহ পণ্ড করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় গোপনে আয়োজিত একটি বাল্যবিবাহ পণ্ড করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানের সময় ১৪ বছর বয়সি কনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাকে নিজের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে মেয়ের বাবাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার কুড়ুলগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুড়ুলগাছি গ্রামের রফিকুল ইসলাম (কচি) তার ১৪ বছর বয়সি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের গোপনে বিয়ের আয়োজন করছিলেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও সাজানো আসরের পরিবেশ থমকে যায়।
এরই মধ্যে অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা আতঙ্কে কনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসতেই ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন বিলম্ব না করে কিশোরীকে উদ্ধার করে নিজের সরকারি গাড়িতে তুলে নেন এবং দ্রুত দর্শনা মুক্তি ক্লিনিকে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসা শেষে ওই দিন রাতে কিশোরী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
কিশোরীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার আয়োজন করা ও আইন লঙ্ঘনের অপরাধে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী কনের বাবা রফিকুল ইসলাম কচিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি এবং আইনি অপরাধ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং বাল্যবিবাহটি বন্ধ করি। অভিযানকালে মেয়েটি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে মানবতার খাতিরে আমরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দর্শনা মুক্তি ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। পরে কনের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না মর্মে পরিবার থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে এবং কনের বাবাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

-(1)-6ab7f60e4ed11.jpg)