Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বন্যামুক্তির স্বপ্ন ফেনীর নদীপারের মানুষের

Icon

নুরুজ্জামান সুমন, ফেনী

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৪ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বন্যামুক্তির স্বপ্ন ফেনীর নদীপারের মানুষের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

Advertisement

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফর ঘিরে নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত জেলার নদীপারের মানুষ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) তার সফরে পরশুরামে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্যা, জলাবদ্ধতা ও নদীভাঙনের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের। প্রকল্পটি গত ১৬ জুন একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে পরশুরাম ও ফুলগাজীতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ ও রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। বিকালে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মাননা এবং জনসভায় অংশ নেবেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফুলগাজীতে ৫১০ জনকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। জেলার ছয় উপজেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন পাবেন কৃষক কার্ড। এছাড়া ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী ভাতা দেওয়া হবে। ছাগলনাইয়া, পরশুরাম ও ফুলগাজীর ২০০ দরিদ্র, অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থী এবং প্রতিবন্ধীর মধ্যে অনুদান ও ঢেউটিন বিতরণ করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় নদী ও জলাধার পুনঃখনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ এবং সেচ অবকাঠামো সংস্কারের কাজ করা হবে।

ফেনীর পরশুরাম, ফুলগাজীসহ নদীতীরবর্তী এলাকায় বর্ষা এলেই বাড়ে আতঙ্ক। মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্যা ও নদীভাঙনের শঙ্কায় দিন কাটে মানুষের। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় এসব এলাকার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপরও বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ ও নদীতীরের ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।

পরশুরাম নদীপারের বাসিন্দা প্রবাসী আবদুল ওহাব বলেন, আমরা নদীর পাশে বসবাস করি। বেড়িবাঁধ টেকসইভাবে নির্মাণ হলে এলাকার মানুষ নিরাপদে থাকতে পারবে। বন্যার সময় প্রবাসে থাকা আমাদের মতো মানুষদেরও পরিবার নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া, বাঁধটি সুন্দর ও টেকসইভাবে নির্মাণ করা।

কৃষক সামছুল হক বলেন, আমাদের বাড়ির সামনে বেড়িবাঁধের অবস্থা খুবই খারাপ। বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে গেছে, মাটি সরে গেছে। দ্রুত বাঁধ সংস্কার ও নির্মাণের কাজ শুরু হলে আমরা উপকৃত হব।

পরশুরাম পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু তালেব বলেন, মুহুরী-কহুয়া বেড়িবাঁধ প্রকল্পের এটি প্রথম অংশ। আমরা আশা করি, এর ধারাবাহিকতায় পূর্ণাঙ্গ বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ছাগলনাইয়ার দক্ষিণ কুহুমা গ্রামের পোলট্রি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আলো বলেন, ২০২৪ সালের বন্যায় তার খামারগুলো পানিতে তলিয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি তিনি। তার প্রত্যাশা, বন্যার স্থায়ী সমাধানে বাঁধগুলো টেকসইভাবে নির্মাণ করা হবে এবং প্রকল্পের কাজ মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু বাঁধ নির্মাণ করলেই হবে না। মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর নাব্যতা বাড়াতে নিয়মিত খনন, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে ১২২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের টেকসই সংস্কারেরও দাবি রয়েছে তাদের।

ফেনীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি প্রায় শেষ। বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সভা হয়েছে। পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে স্থানীয়দের আরও কিছু প্রত্যাশা রয়েছে। লালপুলে আন্ডারপাস নির্মাণ, ফেনীতে মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, নদী খনন এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি দীর্ঘদিনের।

ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, মুহুরী-কহুয়া নদীর বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সীমান্তের ওপার থেকে আসা পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, নদী খনন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। লালপুলে আন্ডারপাস ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিও দীর্ঘদিনের।

ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নদী খনন ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি ফুলগাজীতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ জনগণের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

নদীপারের মানুষের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর শুধু একটি প্রকল্পের উদ্বোধনে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর তীরবর্তী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, নদীভাঙন ও পানি নিষ্কাশনের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বছরের পর বছর বন্যা ও নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করা মানুষের দুর্ভোগ এবার স্থায়ীভাবে কমবে—এমন আশাতেই প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিকে তাকিয়ে তারা।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

দুর্গাপূজা ও প্রবারণা উপলক্ষে দুই ধর্মাবলম্বীদের জন্য অনুদান বাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

দুর্গাপূজা ও প্রবারণা উপলক্ষে দুই ধর্মাবলম্বীদের জন্য অনুদান বাড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

তাবলিগ জামাত থেকে আর বাড়ি ফেরা হলো না সিরাজের

তাবলিগ জামাত থেকে আর বাড়ি ফেরা হলো না সিরাজের

বৃহস্পতিবার ফেনী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার ফেনী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

আরও পড়ুন

ওসির কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে ‘থানার ইট খুলে নেওয়ার’ হুমকি এনসিপি নেতার

ওসির কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে ‘থানার ইট খুলে নেওয়ার’ হুমকি এনসিপি নেতার

কুতুবদিয়ায় দুই জাহাজের সংঘর্ষ

কুতুবদিয়ায় দুই জাহাজের সংঘর্ষ

মুক্তি পেলেও ক্যাম্পাস ছাড়তে পারছেন না অধ্যক্ষসহ শিক্ষকরা

মুক্তি পেলেও ক্যাম্পাস ছাড়তে পারছেন না অধ্যক্ষসহ শিক্ষকরা

ঝটিকা মিছিলের পরদিন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

ঝটিকা মিছিলের পরদিন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম