হবিগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘটে চরম ভোগান্তি
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট সড়কে চলাচলকারী বাস মৌলভীবাজারে আটকে রাখা এবং শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘট শুরু হয়েছে। হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের ডাকে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়।
ধর্মঘটের কারণে হবিগঞ্জের অভ্যন্তরীণ সড়কসহ সব দূরপাল্লার গণপরিবহণ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
একই সঙ্গে জেলার সব যানবাহন মালিক-শ্রমিক সমিতি ও সংগঠন এ ধর্মঘটের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল জানান, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট রুটে হবিগঞ্জের বাস চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সময় শ্রমিকদের মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সম্প্রতি হবিগঞ্জের ৩টি বাস মৌলভীবাজারে আটকে রাখা হয়েছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিভিন্ন সময় বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান হলেও পরে আবারও তারা বাস আটকে দেন এবং শ্রমিকদের মারধর করেন। এর প্রতিবাদে ও স্থায়ী সমাধানের দাবিতে এ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয় হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে আগের মতো বাস চলাচল করবে। তবে শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের বাস কোনো স্টপেজ দিতে পারবে না। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিছুদিন বাস চলাচল করার পর গত ১১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক-শ্রমিকরা হবিগঞ্জের ২২টি বাস আটকে দেন। পরে ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমঝোতা বৈঠকে আটক বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়; কিন্তু ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে একই রুটে বাস চলাচল শুরু হলে এসএমএস কর্তৃপক্ষ আবারও হবিগঞ্জের তিনটি বাস আটকে রাখে, যা এখনো ছাড়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও এসএমএস বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম রিপন। তিনি বলেন, বিষয়টি সমাধানের দিকে এগোচ্ছিল; কিন্তু এর মধ্যে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের লোকজন শ্রীমঙ্গলে এসএমএস পরিবহণের কাউন্টারে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। এতে আমাদের কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং একজন আইসিইউতে রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, শ্রীমঙ্গলের স্থানীয় শ্রমিকরাই ক্ষুব্ধ হয়ে বাসগুলো আটকে রেখেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধানে দুইপক্ষের নেতাদের নিয়ে দ্রুত আলোচনায় বসতে হবে।
