Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

নতুন করে আর কষ্ট পেতে চান না আকলিমা

Advertisement

Icon

সিদ্দিক আলম দয়াল, গাইবান্ধা

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৬ এএম

নতুন করে আর কষ্ট পেতে চান না আকলিমা

আকলিমা বেগম। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

জমিজমা, বাড়ি-ঘর ও তিন ছেলে আর আর দুই মেয়ে থেকেও বৃদ্ধ মায়ের পেটে এক বেলা ভাত জোটেনি গাইবান্ধার আকলিমা বেগম। অবশেষে কয়েকদিন এ বাড়ি ও বাড়িতে থেকে খেয়ে না খেয়ে এক কাপড়ে চলে আসেন বৃদ্ধাশ্রমে। 

এখন এই প্রবীণ বয়সে আকলিমা বেগম আর নতুন করে কষ্ট পেতে চান না। তাই সবাইকে ভুলে নতুন করে জীবন শুরু করেছেন বৃদ্ধশ্রমের একটি ঘরে। 

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাইয়াগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা আকলিমা বেগম। স্বামী আব্দুস সোবাহান মিয়া ছিলেন গৃহস্থ। 

জমিজমা যা আছে তাতে ঘরের ভাত খেয়ে ভালোই চলে যাচ্ছিল আকলিমা বেগমের সংসার। সংসারের টাকা পয়সা ও চাল ডাল খেয়ে বড় করেছেন ছেলে ময়না, চুন্নু ফারুক এবং মেয়ে ফেরেজা ও বেগমসহ ৫ জন সন্তানকে। মেয়ে-ছেলে সবাইকে বিয়ে দিয়েছে। পড়ালেখা শিখিয়েছেন। 

কিন্তু ২০০০ সালে স্বামী আব্দুস সোবাহানের মৃত্যুর পর ছেলে মেয়েদের আসল চেহারা ফুটে ওঠে বৃদ্ধ মায়ের কাছে। ছেলে মেয়েরা সবাই আলাদা সংসার গড়ে তোলেন । তাদের সংসারে আয় রোজগারও অনেক ভালো । কিন্তু মায়ের ঘরের প্রতি লোভ হয় তাদের। 

কথায় কথায় নিজের ছেলে-মেয়েরা ও ছেলের বউ মা আকলিমাকে নিয়ে নানা কটূকথা বলেন। কেউ বলে কামাই করে খাও। আমরা আর টানতে পারছি না। বসে থাকলে কি আর ভাত পাওয়া যায়। কোথায় থেকে আসে খাবার আর কাপড়-চোপড়। এসব মুখ বুজে সহ্য করেও কিছুদিন মরার মতো খেয়ে না খেয়ে স্বামীর স্মৃতি আকড়ে ধরে পড়ে থাকে তার ঘরে। 

কিন্তু ছেলের বউদের নজর ছিল ওই ঘরের দিকে। তাই একদিন শাশুড়ির খাবার বন্ধ করে দেন। সকাল গড়িয়ে রাত পর্যন্ত অনাহারে থেকেও তার ঘরে এক থালা ভাত দেয়নি ৫ ছেলে-মেয়ের একজনও। বাধ্য হয়ে অনাহারেই ঘুমিয়ে পড়েন আকলিমা। সকালে উঠে ছেলে-মেয়েদের জিজ্ঞেস করতেই তারা জবাব দেয় আমাদের নিজেদের খাবার জোগার করাইতো কঠিন। সে জন্য হয়তো ভাতের থালাটা তোমাকে দেয়নি।

ছেলের মুখে এমন জবাব শুনে রাগে ক্ষোভে বৃদ্ধ মাতা আকলিমা বেগম ঘরবাড়ি ছেড়ে দুই মাস আগে পাশের একজনের সহযোগিতায় চলে আসেন ছোট সোহাগী গ্রামের মেহেরুন্নেছা বৃদ্ধাশ্রমে। বৃদ্ধ আকলিমা কেঁদে কেঁদে বলেন বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা আপেল মাহমুদের কাছে। 

ঘটনা শুনে তিনি বৃদ্ধাশ্রমের টিনশেট একটি ঘরের বিছানা দেখিয়ে বলেন, আজ থেকে আপনি অন্যদের মতো আমাদের মা। আপনার ঘর এটা। সেই থেকে তিনি আছেন বৃদ্ধাশ্রমে। দুই মাস থেকে বৃদ্ধাশ্রমে থাকলেও তার খবর পৌঁছে যায় তার ছেলে-মেয়েদের কাছে। মায়ের খবর পেয়েও তারা দেখতেও আসেনি কোনোদিন। 

এখন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার চিকিৎসা চলছে বৃদ্ধাশ্রমে। এ খবর পেয়েও তার ৫ সন্তানের একজনও তার মাকে দেখতে আসেনি। তাতে তার আফসোস নেই। এখানে তিনি ভালোই আছেন। খেতে পারছেন, ঘুমাতে পারছেন, অন্যদের সঙ্গে গল্প করে সময় কাটলেও ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনিদের কথা মনে পড়লে বৃদ্ধ বয়সে তিনি শুয়ে শুয়ে কাঁদেন। কথা বলতেই তিনি বলে ওঠেন আমার কাছে কোনো দিবস বলতে কিছু নাই। ওইসব বুঝি না শুধু বুঝি ছিল তার কপালে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

জানুয়ারি-জুনে সম্পন্ন হবে স্থানীয় নির্বাচন, প্রয়োজনে সেনা: মীর শাহে আলম

জানুয়ারি-জুনে সম্পন্ন হবে স্থানীয় নির্বাচন, প্রয়োজনে সেনা: মীর শাহে আলম

নারীর গোসলের ছবি ধারণ করে ১৫ লাখ টাকা দাবি, যুবক গ্রেফতার

নারীর গোসলের ছবি ধারণ করে ১৫ লাখ টাকা দাবি, যুবক গ্রেফতার

গোবিন্দগঞ্জে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

গোবিন্দগঞ্জে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

নারীর গোসলের ছবি ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে ১৫ লাখ টাকা দাবি

নারীর গোসলের ছবি ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে ১৫ লাখ টাকা দাবি

পলাশবাড়িতে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার

পলাশবাড়িতে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার

সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি ও এসআইকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি ও এসআইকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

আরও পড়ুন

হবিগঞ্জে পরিবহণ ধর্মঘট স্থগিত

হবিগঞ্জে পরিবহণ ধর্মঘট স্থগিত

ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষা তিন দিন আগে নিজেদের হেফাজতে প্রশ্ন রাখলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ২ কর্মকর্তা, তারা কারা

তিন দিন আগে নিজেদের হেফাজতে প্রশ্ন রাখলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ২ কর্মকর্তা, তারা কারা

নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ

কৃষক কার্ড বিতরণে অনিয়মে ‘জিরো টলারেন্স’: ডেপুটি স্পিকার

কৃষক কার্ড বিতরণে অনিয়মে ‘জিরো টলারেন্স’: ডেপুটি স্পিকার

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম