উদ্বোধনে দাওয়াত পাননি, মাতবরের ক্ষোভের জেরে ৩০ শিক্ষার্থীর লেখাপড়ায় ব্যাঘাত
Advertisement
ফরিদপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঘটা করে উদ্বোধন করা হয়েছে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ; কিন্তু সেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন এলাকার এক প্রভাবশালী মাতবর। তার ক্ষোভের জেরে গত কয়েক দিন ধরে ওই বিদ্যালয়ে আসছে না প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের অন্য স্কুলে ভর্তি করানোরও চেষ্টা করছেন। এতে লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটেছে ৩০ শিক্ষার্থীর।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৭ সালে ৩৩ শতাংশ জমির উপর চর চাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে চারজন শিক্ষক ও ১০৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়টির নতুন ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করে তাদের নির্মাণকাজ উদ্বোধনের বিষয়টি জানায়। ফলে অনুষ্ঠানে স্থানীয় কাউকে দাওয়াত দেওয়ার সুযোগ পাননি তারা। আর এতেই ক্ষুব্ধ হন স্থানীয় প্রভাবশালী মাতবর কামরুল হাসান (৪৩)।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্থানীয় অভিভাবকদের নিয়ে একটি সভা করে তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করার নির্দেশ দেন। তার প্রভাবের কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না।
জানা যায়, কামরুল হাসান ভাষানচর ইউনিয়নের নছর উদ্দিন খার ডাঙ্গী গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার বাবা মরহুম আবুল কালাম ভাষানচর ইউপির ওই ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য (মেম্বার) ছিলেন। কামরুল হাসান বর্তমানে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থায় কর্মরত।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, ভবন উদ্বোধনের আগে নিয়মিত ৬৫ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকত। তবে গত কয়েক দিন ধরে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ জনের মতো শিক্ষার্থী আসছে। এতে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার পাঁচ-ছয়জন শিক্ষার্থী ছাড়পত্র (টিসি) নিয়ে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হঠাৎ উদ্বোধনের বিষয়টি জানানোয় আমরা কাউকে দাওয়াত দেওয়ার সুযোগ পাইনি। বিষয়টি আমি কামরুল হাসানকে বুঝিয়ে বলেছি; কিন্তু তিনি আমাদের কথা শোনেননি।
এ বিষয়ে পার্শ্ববর্তী চর চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভগিরত সাহা জানান, ওই বিদ্যালয় থেকে এ পর্যন্ত ২৫-২৭ জন শিক্ষার্থী তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে তার বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে এসেছিল। তবে টিসি না থাকায় কাউকে এখন পর্যন্ত ভর্তি করা হয়নি।
ভাষানচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য মো. ফরিদ হোসেন বলেন, কামরুল হাসান নছর উদ্দিন খার ডাঙ্গী এলাকার মাতব্বর। তিনিই ওই এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন।
ভাষানচর ইউপি চেয়ারম্যান মো. গোলাম কাওসার বলেন, একটি গ্রামের শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাচ্ছে না বলে তিনি শুনেছেন। বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে মাতবর কামরুল হাসান বলেন, আমার বাড়ি ওই এলাকায় হলেও সরকারি চাকরির সুবাদে আমি ফরিদপুর শহরে থাকি। ওই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা হয় না বলেই হয়তো অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের অন্য স্কুলে ভর্তি করতে চাইছেন।
বছরের ১০ মাস পর হঠাৎ করে এত অভিভাবকের টিসি নেওয়ার পেছনে তার কোনো হাত নেই দাবি করে তিনি বলেন, কেউ হয়তো শত্রুতা করে আমার বিরুদ্ধে এসব কথা বলছেন।
সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
