দুই পায়ের শক্তি হারিয়েও শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন অপূর্ব
Advertisement
ফরিদপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
গত ১০ বছর ধরে হুইলচেয়ারই তার যাতায়াতের একমাত্র বাহন।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দুই পায়ের শক্তি হারিয়েছেন ১০ বছর আগে। বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার সামর্থ্য না থাকলেও শিক্ষার আলো ছড়ানোর অদম্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় হুইলচেয়ারে বিদ্যালয়ে আসেন। পাঠদান শেষে ছাত্রদের ভরসায় বাড়ি ফেরেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বাধা না ভেবে তিনি শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বামুন্দী বালিয়াকান্দী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অপূর্ব লাল মণ্ডল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জন্মের পর সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন অপূর্ব লাল মণ্ডল। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াকালীন সময়ে পায়ে সামান্য সমস্যা লক্ষ্য করেন। এই সমস্যা নিয়েই স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। ১৯৯৯ সালে নিজের এলাকায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। তার কয়েক বছর পর থেকে ধীরে ধীরে পায়ের শক্তি হারাতে থাকে। এরপর দুই পায়ে ভর করে আর চলা হয়নি অপূর্ব লালের। গত ১০ বছর ধরে হুইলচেয়ারই তার যাতায়াতের একমাত্র বাহন।
শিক্ষক অপূর্ব লাল মণ্ডল বলেন, প্রতিদিন স্কুলে যেতে ছাত্ররাই আমার চলার সঙ্গী। কারও কাঁধে ভর করে, কখনো একাধিক শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়ে যাতায়াত করি। এত কষ্ট ও চ্যালেঞ্জের মাঝেও শিক্ষকতাকে পেশা নয়, শিক্ষার আলো ছড়ানোকে নেশা হিসেবে নিয়েছি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা সবসময় পাশে থেকে আমাকে সহযোগিতা করেন।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিব উল্লাহ বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অপূর্ব স্যারকে পেয়েছি। তখন থেকেই দেখেছি, বড় ক্লাসের ভাই-বোনেরা স্যারকে হুইলচেয়ারে করে বিদ্যালয়ে আনা-নেওয়া করছেন। এখন আমরা সেই দায়িত্বটা পালন করি। এত কষ্ট করেও স্যার আমাদের পাঠদান করান। অনেক সুন্দর করে ক্লাস নেন। তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা।
সহকারী শিক্ষক ফরিদ শেখ জানান, অপূর্ব লাল মণ্ডল আমার বাল্যবন্ধু। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কলেজে লেখাপড়াও একসঙ্গে করেছি। এক বছর আগে-পরে একই স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করি। তাই অসুস্থ বন্ধু বা সহকর্মীর জন্য খারাপ লাগলেও শেষ দিন পর্যন্ত এভাবে পাশে থাকতে চাই।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, শুধু স্কুলে যাতায়াত নয়, শ্রেণিকক্ষে ঢুকেও দায়িত্ব পালনে অপূর্ব লালের যেন কোনো ক্লান্তি নেই। শিক্ষার্থীদের যত্ন করে পাঠ বুঝিয়ে দেন। তবে চলাচলের জন্য তার একটি আধুনিক হুইলচেয়ার হলে পাঠদান ও যাতায়াতে আরও সুবিধা হতো।

-6ac12e7a26c22.jpg)