সাবেক ছাত্রদল নেতার স্ট্যাটাস, ‘বাবা-মায়ের সব থেকে অকর্মা সন্তানগুলোই সাংবাদিক হয়’
Advertisement
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
মাজহারুল ইসলাম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘বাবা-মায়ের সব থেকে অকর্মা সন্তানগুলোই সাংবাদিক হয়’—পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ে এমন অবমাননাকর মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম।
তার এই আপত্তিকর মন্তব্যে নরসিংদীর সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে মাজহারুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে বিতর্কিত ওই স্ট্যাটাসটি দেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে পোস্টটি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের নজরে এলে এবং সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পোস্টে তিনি লেখেন- ‘জল পাঁঠা সাংবাদিকের নিউজ হলো জলপরী নিউজ। কিছু কিছু সাংবাদিক দেখলে মনে হয় বাবা-মায়ের সব থেকে অকর্মা সন্তানগুলোই সাংবাদিক হয়।’
এমন মন্তব্যকে পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্য চরম অবমাননাকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি নরসিংদীর মনোহরদীতে একটি পুকুরে কথিত ‘জলপরী’ দেখা গেছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে তৈরি হওয়া নানা বিভ্রান্তিকর ভিডিও নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং বিষয়টি নিয়ে কিছু সংবাদও প্রকাশিত হয়। মূলত ওই প্রসঙ্গ টেনেই ছাত্রদলের এই নেতা সাংবাদিকদের আক্রমণ করে পোস্ট দেন।
বিতর্কিত স্ট্যাটাসের বিষয়ে জানতে চাইলে মাজহারুল ইসলাম আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, সব সাংবাদিক সৎ কিংবা ভালো নন। আমি সব সাংবাদিককে বলিনি, কিছু সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেছি।
তবে মূলধারার কোনো গণমাধ্যম বা সাংবাদিক জলপরীর ঘটনাকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করেছে কিনা—এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তিনি স্বীকার করেন, আমি আসলে পুরো কোনো নিউজ পড়িনি কিংবা বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনও দেখিনি। ফেসবুক স্ক্রল করতে গিয়ে চোখের সামনে যতটুকু এসেছে, সেটুকুই দেখে মন্তব্য করেছি।
মাজহারুল ইসলাম নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নরসিংদী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
সাংবাদিকদের নিয়ে এমন অমর্যাদাকর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বিশ্বজিৎ সাহা। তিনি বলেন, সাংবাদিক সমাজকে ঢালাওভাবে অবমাননা করে এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা সামাজিক মাধ্যমের অপেশাদার কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং মূলধারার দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের পার্থক্য বোঝেন না, তারাই কেবল এমন নিম্নমানের শব্দচয়ন করতে পারেন। সাংবাদিকরা হলেন সমাজের দর্পণ; তাদের এভাবে খাটো করা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
