চার বছরের শিশুকে অপহরণের পর হত্যা, দম্পতি গ্রেফতার
Advertisement
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিখোঁজের দুদিন পর মো. ওমাইর নামে চার বছরের এক শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটির বাবার অভিযোগ, অপহরণের পর তার কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় আব্দুর রহমান ও তার স্ত্রী আনসার বেগমকে গ্রেফতার করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১৫নং জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-১৩ ব্লকে একটি ময়লার ট্যাংকির পাশে টিনের বেড়ার ভেতর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ওমাইর ওই ক্যাম্পের ডি-১ ব্লকের বাসিন্দা আব্দুল হামিদের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা ও ব্লক হেড মাঝি বিষয়টি পুলিশকে জানান। এরপর শিশুটিকে উদ্ধারে অনুসন্ধান শুরু করে জামতলী পুলিশ ক্যাম্প।
গত ৯ অক্টোবর শিশুটির বাবা পুলিশকে জানান, আব্দুর রহমান তার কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয় রোহিঙ্গা মাঝিদের সহযোগিতায় শনিবার দুপুরে আব্দুর রহমানকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুর রহমান শিশুটিকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বসতঘরসংলগ্ন একটি ময়লার ট্যাংকির পাশে টিনের বেড়ার ভেতর থেকে বস্তাবন্দি লাশটি উদ্ধার করা হয়।
৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্বামী-স্ত্রী মিলে চার বছরের শিশু ওমাইরকে অপহরণ করেন। পরে শিশুটির পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কিন্তু মুক্তিপণ না পেয়ে তারা শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর লাশ বস্তাবন্দি করে তাদের বসতঘরসংলগ্ন একটি ময়লার ট্যাংকির পাশে টিনের বেড়ার ভেতরে লুকিয়ে রাখে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা শিশুটিকে অপহরণ ও হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতেও রাজি হয়। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
জামতলী পুলিশ ক্যাম্প-১৫-এর পরিদর্শক তারেক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, লাশ উদ্ধারের পর উখিয়া থানা পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় আব্দুর রহমান ও তার স্ত্রী আনসার বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দি করে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে হত্যার কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।

-6acb7ca3d315b.jpg)