প্রত্যন্ত অঞ্চলের বঞ্চিতদের মূলধারায় আনতে চান প্রধানমন্ত্রী: পর্যটনমন্ত্রী
Advertisement
ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম
কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেছেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চান। তিনি একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন, যার মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া বঞ্চিত মানুষদের মূলধারায় তুলে নিয়ে আসা হবে। আর এটি বাস্তবায়নে তরুণ শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, তোমরাই দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, তোমরাই পারবে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে।
রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ শহরের আকুয়ায় একটি রিসোর্টে সিটি করপোরেশন আয়োজিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিটি প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ, মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু এবং ঈশ্বরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ প্রতিপাদ্য তুলে ধরে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছর বৃহত্তর ময়মনসিংহে এই উল্লাস স্তিমিত ছিল। কোনো ধরনের উল্লাস ছিল না, সুষ্ঠু পড়াশোনার পরিবেশ ছিল না। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পূর্বে সবকিছুতেই অসচ্ছতা ছিল। এখন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ বিভাগসহ গোটা দেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরা জানে তারা আগামী বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী পরিকল্পনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগোতে হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলাকারীকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।
ময়মনসিংহের ত্রিশালে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার জনদাবি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ত্রিশালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করার যে সার্বজনীন প্রত্যাশা রয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই বৃহৎ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হবে। তাই সবাইকে ধৈর্য ধরে একযোগে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে সমাজকে মাদকমুক্ত করতে হবে, যেন শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে সুশৃঙ্খল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের সাফল্যের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর প্রতি নজর রাখবেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। বিগত সময়ের অনিয়মের কারণে বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুতের কিছুটা সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে, যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
বিমান ক্রয় নিয়ে সমালোচনার জবাবে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, আমরা যে ৩৫টি নতুন বিমান কেনার উদ্যোগ নিয়েছি, তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—বিলিয়ন ডলার খরচের প্রয়োজনীয়তা কী? কিন্তু এই বিমানগুলো বহরে যুক্ত হতে অন্তত ১০ বছর সময় লাগবে। বর্তমানে চালু থাকা উড়োজাহাজগুলো যখন অচল হয়ে যাবে, তখন দেশের এভিয়েশন খাত কিভাবে চলবে? এই দূরদর্শী চিন্তা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ছিল না, আর এখনো যারা বিরোধিতা করছেন তারাও বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছেন না।
মন্ত্রী আরও যোগ করেন, ময়মনসিংহকে আমরা কোনোভাবেই অনুন্নত রাখতে চাই না। এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে যা যা করণীয়, প্রধানমন্ত্রী তা-ই করবেন। এর অংশ হিসেবে নেত্রকোনার বিরিশিরিকে একটি আধুনিক পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
