ফ্যামিলি কার্ডের আশায় দিলেন টিপসই, পরে জানলেন ‘বিয়ে হয়ে গেছে’
Advertisement
ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম
ভুক্তভোগী মোছাম্মৎ আছিয়া বেগম (৪৩)। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবা নারীর টিপসই নিয়ে এফিডেভিট ও ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানার পর ভুক্তভোগী নারী গ্রামের মসজিদ কমিটির কাছে বিচার দিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী মোছাম্মৎ আছিয়া বেগম (৪৩) উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামের বাসিন্দা। গত এক যুগ আগে তার স্বামীর মৃত্যু হয়। ঘরে তার পাঁচ সন্তান রয়েছে। তিন ছেলেকে বিয়েও করিয়েছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রস্তাব আসলেও তিনি বিয়ে করেননি।
দ্বিতীয় ছেলে আসাদুলকে প্রায় চার বছর আগে বিয়ে করানোর সময় প্রতিবেশী আব্দুল কদ্দুছকে (৬২) উকিল শ্বশুর বানানো হয়। আত্মীয়তার সুবাদে প্রায়ই ভুক্তভোগীর বাড়িতে যাওয়া-আসা করতেন কুদ্দুছ। তিনি মাঝে মধ্যে স্থানীয় আব্দুছ ছাত্তারের মাধ্যমে বিধবা আছিয়া বেগমকে বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। প্রতিবারই বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দিতেন আছিয়া। গত প্রায় দেড় মাস আগে আব্দুস ছাত্তার বর্তমান সরকারে ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার নামে কৌশলে তার দোকানে নিয়ে ভুক্তভোগী আছিয়া বেগমের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি নেয়। এর কয়েকদিন পর একটি খাতায় দুটি টিপসই নেয়।
আরও জানা গেছে, সম্প্রতি আছিয়া ও আব্দুল কদ্দুছ বিয়ে করেছেন বলে একটি এফিডেভিট ও কাবিননামার কাগজ দেখিয়ে গ্রামের মানুষের মাঝে প্রচার করা হয়। পরে ভুক্তভোগী আছিয়া স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও সভাপতির কাছে বিচার দেয়।
এ ঘটনায় গত সোমবার সন্ধ্যায় পাটুলী গ্রামের ওই নারীর বাড়িতে সালিশ হয়। সালিশে নারীর মুখ থেকে বিস্তারিত শুনেন উপস্থিত লোকজন। অভিযুক্ত ছাত্তার উপস্থিত না থাকায় পরবর্তীতে আবারও বুধবার সালিশের তারিখ দেওয়া হয়।
সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হতদরিদ্র আছিয়া বেগমকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়ে আব্দুল কদ্দুছ ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে এফিডেভিট ও ভুয়া কাবিননামা করেছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। পৌরসভার ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড কাজী অফিসের সীলযুক্ত একটি কাবিননামায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য ও নগদ ৫০ হাজার টাকা আদায় দেখানো হয়েছে। কাবিননামায় আব্দুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে, অথচ তারা কেউ এ বিষয়টি জানে না। আব্দুছ ছাত্তার টাকার বিনিময়ে এ কাজটি করেছেন। তার সঙ্গে আব্দুল হেকিম মাস্টার জড়িত রয়েছে। সালিশে আব্দুছ ছাত্তারকে উপস্থিত থাকতে বলা হলেও তিনি আসেনি।
সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মোবাইলে আব্দুস ছাত্তারের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেয়। এরপর আর ফোন ধরেনি। অভিযুক্ত কদ্দুসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগী আছিয়া বেগম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে একদিন জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি নিয়েছেন ছাত্তার। আরেক দিন ফোন দিয়ে ছাত্তারের দোকানে নিয়ে কাগজে টিপসই নিয়েছেন। এখন গ্রামে ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে আমাকে কদ্দুছ বিয়ে করেছেন। আমার পাঁচ সন্তান ও নাতনী রয়েছে, গ্রামে মানুষের মাঝে মুখ দেখাতে পারছি না। তার বিচারের দাবিতে সমাজে ও মসজিদ বিচার দিয়েছি। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
পৌরসভার ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. গোলাম মোস্তফা দাবি করেছেন, তার নম্বর, সীল ও স্বাক্ষর জাল করে হয়তো কেউ এই জালিয়াতি করেছেন। তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানে না।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগ ভুক্তভোগী নারীর সম্মানহানীর বিষয়ে অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়া ভুক্তভোগীর সঙ্গে ন্যাক্কারজনক প্রতারণার নিন্দা জানান তিনি।

-6ac7a3d404b36.jpg)