২০ বছরের পুরোনো বাস চলাচলের সুযোগ চেয়ে ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি
Advertisement
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রংপুর বিভাগীয় বাস-মিনিবাস মোটর মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম বসুনিয়া।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০ বছরের পুরোনো বাস ও মিনিবাসের ফিটনেস সনদ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং ফিট থাকা গাড়ি চলাচলের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে রংপুর বিভাগীয় বাস-মিনিবাস মোটর মালিক সমিতি। অন্যথায় আগামী ১ নভেম্বর থেকে রংপুর বিভাগে সর্বাত্মক ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সমাধান না এলে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকালে রংপুর নগরীর জেলা মোটর মালিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রংপুর বিভাগীয় বাস-মিনিবাস মোটর মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম বসুনিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিআরটিএর নীতিমালা অনুযায়ী বাস ও মিনিবাসের ইকোনমিক লাইফ ২০ বছর এবং ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের জন্য ২৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়মে সারা দেশে নিবন্ধিত ২০ বছরের পুরোনো প্রায় ৫৬ হাজারের বেশি বড় বাস ও ২৮ হাজারের বেশি মিনিবাস চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
তবে ২০২৪ সালে সারা দেশে নতুন রেজিস্ট্রেশন পাওয়া বাসের সংখ্যা মাত্র ১,৭৩৬টি, যার মধ্যে মিনিবাস মাত্র ২২০টি। এই গতিতে গাড়ি প্রতিস্থাপন করতে গেলে গণপরিবহণে মারাত্মক শূন্যতা তৈরি হবে।
পরিবহণ নেতারা দাবি করেন, ফিটনেস সনদ দেওয়ার মূল মাপকাঠি হওয়া উচিত বাসের বর্তমান শারীরিক অবস্থা বা কন্ডিশন, বয়স নয়। এ ছাড়া ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহণ আইনের ৪০ ধারা অনুযায়ী, চেসিস ছাড়া অন্যান্য যন্ত্রাংশের নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে সেগুলো পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।
বিআরটিএর বর্তমান সিদ্ধান্ত এই আইনের সরাসরি ব্যত্যয় বলে দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিপুলসংখ্যক গাড়ি একযোগে বাতিল বা স্ক্র্যাপ করলে পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে হাজার হাজার নতুন বাস আমদানিতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হবে, যা দেশের রিজার্ভ ও ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ ফেলবে। নতুন বাস তৈরির পরিবর্তে পুরোনো বাসে নতুন যন্ত্রাংশ সংযোজন করে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও যৌক্তিক বলে মনে করেন পরিবহণ নেতারা।
রংপুর অঞ্চলের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রংপুর বিভাগ একটি কৃষিনির্ভর এলাকা। এখানকার পরিবহণ মালিকদের পক্ষে প্রায় অর্ধকোটি টাকা খরচ করে নতুন গাড়ি কেনা অসম্ভব। একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও নীতিভ্রষ্ট আমদানিকারকদের সুবিধা দিতে আমলারা সরকারকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে এ অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে রংপুর বিভাগীয় বাস-মিনিবাস মোটর মালিক সমিতির সভাপতি শ্রী ভবানী শংকর আগরওয়াল, সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিমুল বারী রাজ এবং রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতির উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান বেলালসহ বিভিন্ন পরিবহণ নেতা উপস্থিত ছিলেন।

-6ad3a0a6efb05.jpg)